মৃত্যুর তিন বছর পর উচ্চ আদালতের রায়ে দুর্নীতির মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) সাবেক মেয়র এবং জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব কামাল। এ মামলায় অভিযুক্ত অন্য চারজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (২৩ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ সময় জামিনের জন্য আদালতে জমা দেওয়া জরিমানার অর্থ পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। আহসান হাবীব কামাল ২০২২ সালের ৩১ জুলাই ঢাকার বনানী বাসায় মারা যান। তার ছেলে কামরুল আহসান রূপন বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে মামলাটি করা হয়েছিল। সাজার কারণে বাবা আট মাস কারাগারে ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালত দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
আহসান হাবিব কামালের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী জানান, আহসান হাবিব কামালসহ বিসিসির তৎকালীন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় মামলা করে দুদক। কিন্তু মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা হলেও তাকে আসামি করা হয়নি। এ ছাড়া সড়ক ও জনপদের একজন প্রকৌশলীর তদন্তে আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছিল দুদক। কিন্তু সেই নির্বাহী প্রকৌশলী উচ্চ আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেননি। এ কারণে কামালের মৃত্যুর তিন বছর পর উচ্চ আদালতের রায়ে কামালসহ পাঁচজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
২০০৯ সালে সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ২৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৯ জুলাই আহসান হাবিব কামাল, সিটি করপোরেশনের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ওই সময়ের সহকারী প্রকৌশলী খান মো. নূরুল ইসলাম, ওই সময়ের পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইসাহাক, উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সত্তার ও ঠিকাদার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সাত আসামির মধ্যে দুজনকে খালাস দিয়ে সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালসহ পাঁচজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা জরিমানার আদেশ দেন বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের ১৬ জুলাই পর্যন্ত আট মাস কারাগারে থাকেন তিনি। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন কামাল। ওই সময়ে জরিমানার টাকার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ায় কারাগার থেকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।