ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

দাপ্তরিক অনুমতি ছাড়াই ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্বে ১৩ হিসাব সহকারী

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৫, ০৭:০৯ পিএম
দাপ্তরিক অনুমতি ছাড়াই ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্বে ১৩ হিসাব সহকারী
দাপ্তরিক চিঠি ছাড়াই প্রশাসনিক কর্মকর্তার চেয়ারে বসে দায়িত্ব পালন করছেন সরকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নাছির হোসেন সোহেল ও ইউসুফ সরকার রুবেল। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের আট উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ শূন্য। এসব পদে কোনো ধরনের দাপ্তরিক চিঠি ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা। মৌখিক অনুমতির মাধ্যমে হিসাব সহকারীরা এখন প্রশাসনিক কর্মকর্তার চেয়ারে। শুধু তাই নয়, তাদের নামে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংকের যৌথ হিসাব। স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর বলছে—এভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য অবশ্যই দাপ্তরিক চিঠি দিতে হবে।

একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

স্থানীয় সরকার বিভাগের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদ শূন্য হলে এই পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কাজ করবেন পাশবর্তী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-২ শাখা থেকে ৫০৭ নম্বর স্মারকে সর্বশেষ ২০২০ সালের চিঠিতে বলা হয়েছে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা কখনোই ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে পারবেন না।

এদিকে ২০১৯ সালের ৬৪৫ নম্বর স্মারকের চিঠিতে হিসাব সহকারীদের কর্মবণ্টন সংক্রান্ত বিস্তারিত বলা রয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগপ্রাপ্তরাও কাজ করতে পারবেন। কিন্তু তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই প্রকাশিত গেজেটে ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাবের সকল আয়-ব্যয় চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে বলে উল্লেখ রয়েছে। জেলায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার ১৩ শূন্য পদে এই ধরনের নিয়ম অনুসরণ না করে মৌখিক অনুমতিতে হিসাব সহকারীরা দায়িত্বসহ ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করছেন।

সরেজমিন জেলার কচুয়া উপজেলার সদর দক্ষিণ ইউনিয়ন ও পাথৈর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা গেছে হিসাব সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার চেয়ারে বসে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার নির্দিষ্ট কক্ষ থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে না।

কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী নাছির হোসেন সোহেল বলেন, আমরা এই পদে থাকলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের পদোন্নতির জন্য উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে। তিনি কেন তার নিজস্ব কক্ষ ব্যবহার না করে অস্থায়ী দায়িত্ব হিসেবে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষ ব্যবহার করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি রেগে যান। বলেন, চেয়ার কোনো সমস্যা নয়। তিনিও চেয়ারম্যানসহ তার নিজ নামে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সকল উন্নয়ন বরাদ্দ এবং জেনারেল অ্যাকাউন্টের টাকা এসব হিসাবে জমা হয়।

একই অবস্থা ২ নম্বর পাথৈর ইউনিয়ন পরিষদে। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আক্কাছ মোল্লার বাড়িতে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিষদের কোনো ভবন নেই। এই পরিষদে দুই মাস আগে হিসাব সহকারী হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. আলমগীর হোসেন। তার নামে যৌথ অ্যাকাউন্ট নম্বরে নাম পরিবর্তন করে হিসাব পরিচালনা করা হচ্ছে।

এই পরিষদের চেয়ারম্যান আক্কাছ মোল্লা বলেন, আমি নিজে চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন। এখানে যিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন তিনি অন্য ইউনিয়নে বদলি হয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে শূন্যপদের কথা জানানো হলে তিনি হিসাব সহকারীকে যোগদানের জন্য বলেন। তবে তিনি (হিসাব সহকারী) কাজে অতটা অভিজ্ঞ না। পূর্বে প্রশাসনিক কর্মকর্তার সহায়তা নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করা হয়, হিসাব সহকারী কীভাবে যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছেন এবং তার অ্যাকাউন্ট পরিচালনার বিষয়ে দাপ্তরিক কোনো চিঠি আছে কি না। চেয়ারম্যান বলেন, কোনো চিঠি নেই। ইউএনও মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন। ইউএনও বলেছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা অফিস থেকে বলা হয়েছে এভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য। দাপ্তরিক কোনো অনুমতির বিষয়ে জানেন না এই চেয়ারম্যান।

পাশবর্তী হাজীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ প্রধানীয়া সুমন বলেন, আমার ইউনিয়নে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদ শূন্য হলে আমি ইউএনওর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছি। আপাতত হিসাব সহকারী দায়িত্ব পালন করছেন। উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করতে অবশ্যই হিসাব সহকারীর নামে অ্যাকাউন্টে নাম পরিবর্তন করতে হবে। তবে আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি।

এই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা গেছে হিসাব সহকারীর নাম মুন্নি আক্তার। তিনি কয়েক মাস পূর্বে এই পরিষদ থেকে বদলি হয়েছেন। নতুন করে আসা হিসাব সহকারী ইউসুফ সরকার রুবেল কাজ করছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তার চেয়ারে বসে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনি নিজের চেয়ার রেখে এই চেয়ারে কেন? তিনি বলেন, এমনিতেই বসেছি। অথচ ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করেই তাকে এই কক্ষে পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, জেলার ৮ উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার শূন্য পদে হিসাব সহকারীদের কোনো ধরনের দাপ্তরিক অনুমতি ছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. গোলাম জাকারিয়া।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বলেন, হিসাব সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন আমি অবগত। তবে তাদেরকে দাপ্তরিক কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে আপনি স্থানীয় সরকার উপপরিচালকের সঙ্গে কথা বলুন।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী বলেন, হিসাব সহকারী যখন প্রশাসনিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন, তখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কে পরিচালনা করবে! তাকে দিয়ে করাতে হবে। দাপ্তরিক অনুমতি দেওয়া হয়নি বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, এই বিষয়ে বক্তব্য প্রয়োজন হলে জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগে কথা বলুন।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, জেলায় ১৩টি প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদের লোকজন উচ্চ আদালতে রিট করেন তাদেরকে এই পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য। যার ফলে এই পদে নিয়োগ হয়নি। তাদের রিট উচ্চ আদালত স্থগিত করে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে শূন্য পদে হিসাব সহকারীদের দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়েছে এবং হিসাব সহকারীদের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকলে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কোথাও উল্লেখ নেই। এই ১৩ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা কোনো দাপ্তরিক চিঠি দিইনি। তবে হিসাব সহকারী হিসেবে বদলির চিঠি দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদ-২ এর কর্মকর্তা (উপসচিব) মো. নুরে আলম বলেন, কোনো ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা না থাকলে পাশবর্তী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কিন্তু হিসাব সহকারী থাকলে তিনিই প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে নিয়মিত কাজ সম্পাদন করবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে দাপ্তরিক চিঠি ও নিয়ম অনুসরণ করে দায়িত্ব দিতে হবে। মৌখিক নয়, শূন্য পদে স্থানীয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়ে দায়িত্ব দিতে পারবেন, তবে দাপ্তরিক চিঠি লাগবে।

 

ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের তারাগঞ্জে অবস্থিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর জেলার ডিআইজি (উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক) আমিনুল ইসলাম। 

ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস্ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউএসএ প্রবাসী মোঃ হাসানুজ্জামান হাসান এর নেতৃত্বে, সিইও ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস্ লিমিটেড এমএম খালিদ আহসান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ঘনিরামপুর গ্রামে অবস্থিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড পরিদর্শন করেন রংপুর জেলার বর্তমান ডিআইজি (উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক) আমিনুল ইসলাম। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক,নীলফামারী জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খান,তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন প্রমুখ।

পরিচালিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড মূলত একটি ১০০% রপ্তানিমুখী অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের জুতা তৈরি ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এটি উত্তরবঙ্গের এবং বিশেষ করে তারাগঞ্জ এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র ও বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।

এসএন/

বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম
দিনাজপুরের পাথরখনি। ছবি: খবরের কাগজ

বিস্ফোরক সংকটের কারণে প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) পাথর উত্তোলন কার্যক্রম। 

গত ১৯ মে থেকে খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও এখনও স্বাভাবিক হয়নি উৎপাদন কার্যক্রম।

খনি সূত্রে জানা গেছে, ভূগর্ভস্থ খনিতে পাথর উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত প্রধান বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সরবরাহ না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

খনি কর্তৃপক্ষ প্রথমে ১৫ দিনের মধ্যে কার্যক্রম পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ থেকে বিস্ফোরকবাহী জাহাজ আসতে বিলম্ব হওয়ায় আমদানি ও পরিবহন প্রক্রিয়াও দীর্ঘায়িত হয়েছে।

এর আগে ২০২২ ও ২০২৫ সালেও বিস্ফোরক সংকটের কারণে মধ্যপাড়া পাথরখনিতে উত্তোলন বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ থাকার নজির রয়েছে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি বিশেষায়িত পণ্য হওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে জাহাজ পেতে বিলম্ব হয়েছে। তবে বিস্ফোরকবাহী চালান ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। আশা করছি, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই পাথর উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও জানান, মোট ৩০০ মেট্রিক টন বিস্ফোরকের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৮৮ মেট্রিক টন সরবরাহ পাওয়া যাবে, যা দিয়ে দুই থেকে আড়াই মাস উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি চালানও দেশে পৌঁছাবে।

এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় পাথরের সরবরাহেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে খনিতে মজুত থাকা পাথর বিক্রি কার্যক্রম সীমিত আকারে অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি মধ্যপাড়া। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে চুক্তির আওতায় প্রতিদিন গড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়। খনিতে তিন শিফটে প্রায় ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন। তবে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সুলতান মাহমুদ/নাঈম

আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই
কৃষক কবির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

কবির হোসেন চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে তাকে ‘ভুয়া কৃষক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নানা ধরনের প্রচারণা চালায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তদন্ত করে। তদন্তে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, কবির হোসেন ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সাদাসিধে একজন মানুষ। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি এলাকার মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রেখেছিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। কবির হোসেনের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

জুয়েল/নাঈম

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট
সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ। ইনসেটে উদ্ধার আইডি কার্ড। ছবি : খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের রিয়াদ কবিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী বাদি হয়ে মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের ইকবাল কবিরের ছেলে রিয়াদ কবিরের বাড়িতে একই এলাকার পিয়ার হোসেন,  মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন (৪৮), লিটন হোসেন, ফর্মা হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন নিয়ে হামলা করে। 

এসময় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরকে মারধর করে। এক পর্যায়ে বাড়ীতে মাদক রয়েছে বলে আমার ঘরবাড়ির আসবাবপত্র তল্লাশি করে। আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে মামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময়  তাদের একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়। আইডি কার্ডে অজয় কুমার জয়, পদবী-সেপয়, ডিপার্টমেন্ট অফ নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ, আইডি নং- ৪৯১৩২৫, জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৪২১৮৯৫৩৪৮৯ পাওয়া যায়।

ফেলে যাওয়া আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য শরীফ হোসেন নামের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সিপাহি পরিচয়ে আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে।

এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি শরীফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আইডি কার্ড ফেরতের জন্য কাউকে ফোন দেননি বলে দাবি করেন। তবে অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। 

ব্যবসায়ী রিয়াদ কবির জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে এলাকার একটি চক্র পুলিশের সোর্সের মাধ্যমে তার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য বাড়িতে হামলা করে। মাদক উদ্ধারের নামে আসবাবপত্র তছনছ করে। হামলাকারীরা নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযুক্ত পিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তিনদিন ধরে ওই এলাকায় তিনি যান না। কেউ তাকে দেখছেন প্রমাণ দিতে পারবে না। তবে শুনেছি প্রশাসনের লোকজনকে রিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করেছে। 

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে হয়রানি মারাক্তক অপরাধ। আসল ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এসএন/

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩ কোটি ৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৪৬৮ টাকা ২৩ পয়সা প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন। 

একই সাথে অর্থবছরের রাজস্ব আয় ১৬ কোটি ৫৮ লক্ষ ২১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা, রাজস্ব ব্যয়: ১৩ কোটি ২০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, উদ্বৃত্ত ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ ৯১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা। আর উন্নয়ন খাতে মোট উন্নয়ন আয় ২৬ কোটি ৫১ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা। মোট উন্নয়ন ব্যয় ২৩ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। উদ্বৃত্ত ২ কোটি ৯৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই উন্মুক্ত বাজেট উপস্থাপন করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম।

উন্মুক্ত বাজেটে উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এবারের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি।

বাজেট ঘোষণাকালে পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম  বলেন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাস্তাঘাট, ড্রেন, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়নে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। কোনো ধরনের নতুন কর চাপানো হয়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর সহকারী প্রকৌশলী এইচ. এম. কামরুজ্জামান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জেবিন সুলতানা, হিসাব রক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন, কার্য সহকারী মোহাম্মদ আব্দুল আহাদসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।

লিটন সরকার বাদল/এসএন