ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ কাইয়ুম আবু-সহ সাবেক সচিব সাইদুর রহমানের রোষানল থেকে রেহাই পেতে ভূমি মালিকরা মানববন্ধন করেছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে সুন্দরবন তীরবর্তী হরিনগরের শাওন ফিস মৎস্য প্রকল্পের সামনের সড়কে ঐ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে তিন শতাধিক ভূমি মালিকসহ স্থানীয় গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
হরিনগর গ্রামের শীবপদ মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ভূমি মালিকরা অভিযোগ করেন বিএনপিপন্থী সচিব পরিচয়দানকারী সাইদুরকে জমি ইজারা না দেওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সাইদুর ও তার লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান শ্যামনগর উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ কাইয়ুম আবু ২৮৬ জন ভূমি মালিকের বিরুদ্ধে একে একে তিনটি মামলা দিয়েছে। চাঁদাবাজিসহ লুটতরাজের মতো অভিযোগে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে তাদের হয়রানি করছে। সকাল-সন্ধ্যা ৩০ থেকে ৩৫টি মোটর সাইকেলযোগে ৭০ থেকে ৮০ জনেরও বেশী উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবক লাঠিসোটা নিয়ে শাওন ফিসের সামনে যেয়ে মহড়া দিচ্ছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া ৭০ বছরের বৃদ্ধ হরিনগরের আব্দুল হামিদ জানান, জমি না থাকার পরেও মিথ্যা মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। গ্রামের সবাইকে আসামি করতে যেয়ে তাকেও বাদ দেওয়া হয়নি দাবি করে ওই বৃদ্ধ জানান, অতি দরিদ্র হওয়ায় মানুষের থেকে ভিক্ষা করে তিনি জামিনের খরচ জুগিয়েছেন।
ভূমি মালিক আব্দুল জলিল জানান, উক্ত মৌজায় তার ১৫ বিঘা জমি রয়েছে। সাইদুরের পরিবর্তে শাওন ফিস এর মালিক সালাউদ্দিনকে সেই জমি ইজারা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি মামলায় জড়ানোর পাশাপাশি মারধর, ঘের লুটসহ আরও হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও এসব ভূমি মালিকগণ অভিযোগ করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল, বকুল সরদার, অনিশ মল্লিক, সিদ্দিক মোড়ল, জয়নাল আবেদিন, নুরুল হক, আব্দুল জলিল, আলম কাগুচী, সুভাস মন্ডল, আজগর গাজী, আলম মোল্যা, মিয়ারাজ হোসেনসহ অর্ধ্বশত ভূমি মালিক।
তারা ছাত্রদল নেতা আবুর মদদে হয়রানিমূলক মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার পাশাপাশি নিরাপদে এলাকায় বসবাসে সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মানববন্ধন শেষে হয়রানির শিকার ভূমি মালিকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
শাহাজান সিরাজ/মাহফুজ