নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় একটি দোকানঘরে দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলা বিএনপি নেতাদের কাছে ভাড়া চাওয়ায় দোকান মালিককে মারধর করে হত্যার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ।
উপজেলার মাহমুদ ইউনিয়নের সালমদী বাজারে স্থানীয় বিএনপির ওই কার্যালয়ের ভেতরে বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরের দিকে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৫৭)। তিনি সালমদী নয়াপাড়া গ্রামের প্রয়াত তালেব আলী ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি ওই দোকানের মালিক ও ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
ছবি: খবরের কাগজ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকমাস আগে স্থানীয় বিএনপি নেতারা সেখানে দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলেন। দোকানের ভাড়া চাওয়াকে কেন্দ্র করে নিহত জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্ক হয়। তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে বিএনপির ওই কার্যালয়ের ভেতরেই দোকান মালিককে মারধর করা হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে তাঁত কারখানার শ্রমিক রাসেল দাবি করেন, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের কয়েকদিন পর পাশাপাশি তিনটি দোকান একত্র করে স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে গড়ে তোলেন মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি তোতা মিয়া প্রধান। এরপর কার্যালয়টিতে মাহমুদপুর ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় ব্যানারও সাঁটানো রয়েছে।
নিহতের ছেলের অভিযোগ, একটি দোকান আমাদের হলেও পাশাপাশি বাকি দুইটা দোকান আমার চাচাদের। চাচাদের ভাড়া দিলেও তারা আমাদের কোনো ভাড়া দেয়নি। এ নিয়ে কয়েকবার বাবার (নিহত জাহাঙ্গীর) সঙ্গে বিএনপি নেতাদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। আজকে পুনরায় সেখানে গিয়ে ভাড়া চাওয়ায় তারা বাবাকে দোকানের ভেতরে নিয়ে মারধর করে হত্যা করে। আমি বাবা হত্যার বিচার চাই।
প্রাথমিক তদন্তে ওই এলাকার বিএনপি নেতা তোতা মিয়া প্রধান, তার ছেলে-ভাতিজা ও অনুসারী নেতা-কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আড়াইহাজার থানার ওসি নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ, হত্যার সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।
এদিকে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন বিএনপি নেতা তোতা মিয়া। পরে তার ছেলে খোকন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবী করেন নিহত জাহাঙ্গীর আজ আমাদের পার্টি অফিসের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। এ নিয়ে তর্কের সময় জাহাঙ্গীর মিয়াকে একটি থাপ্পর দেয় তোতা মিয়া। পরে জাহাঙ্গীরও তোতা প্রধানের গায়ে হাত তোলেন। এর মধ্যেই হাতাহাতির সময় তিনি (জাহাঙ্গীর) অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওনাকে মারধর করা হয়নি, হাতাহাতির সময় আঘাতে তিনি মারা গেছে বলে উল্লেখ করেন তোতা মিয়ার ছেলে।
বিল্লাল হোসাইন/মাহফুজ