আকাশজুড়ে কালো মেঘ। এর প্রভাবে কখনো হালকা, কখনো ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে গত দুই সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে সূর্যের দেখা মিলছে না। রোদ না থাকায় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই ভেজা কাপড় শুকাতে পারছেন না। টানা বৃষ্টির কারণে বসতবাড়িতে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ দেখা দিয়েছে। এতে রোগবালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরের হিলভিউ এলাকার গৃহিণী বিবি আয়শা বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাতের কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে ছোট বাচ্চাদের কাপড় শুকাতে চরম বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। বাচ্চাদের রোগবালাই বৃদ্ধি পেয়েছে।’
চট্টগ্রামে জোয়ারের পানিতে হালিশহর, আগ্রাবাদের কিছু অংশ ও চাঁন্দগাও মোহরা এবং বুড়িশ্চর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানি একত্রিত হলে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
মোহরা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক বলেছেন, ‘প্রতিদিন সকালে-বিকেলে জোয়ারের পানি মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে। আমরা জানি না এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়। আমরা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি চাই।’
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, টানা দুই সপ্তাহ ধরে পুরো চট্টগ্রামে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে রোগবালাই বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, করোনার রেড জোন হিসেবে বিবেচনা হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর। এ ছাড়াও ঘরে ঘরে ভাইরাসজনিত জ্বর সর্দি কাশি লেগেই আছে। নাগরিকদের সর্তক ও সচেতন থাকতে হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে শনিবার পর্যন্ত চিকুনগুনিয়া আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১২০০। এ ছাড়া প্রায় এক হাজার জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আড়াই শ জনের মতো আছেন করোনা আক্রান্ত। এত আক্রান্তের সংখ্যা দেশের অন্য কোনো জেলা বা বিভাগে নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তিন বিভাগসহ চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অতিভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। সমুদ্রে জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে এক থেকে দেড় মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ ইসমাইল ভূঁইয়া বলেছেন, চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রামের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও আকাশজুড়ে কালো মেঘের কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সূর্যের দেখা মিলতে পারে। আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে।
শনিবার (২ আগষ্ট) বেলা ৩টা পর্যন্ত (আগের ২৪ ঘণ্টায়) ৩৮ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সবোর্চ্চ ৩২ দশমিক ২ সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের জন্য কোনো ধরনের সর্তক বার্তা নেই। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার।