সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদীর চর বনায়নের গাছ কেটে চর দখল চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে নওয়াবেঁকী ফেরিঘাট সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর পাড়ে দখল হওয়া জায়গায় এ মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, ‘সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বন বিভাগ ৭ থেকে ৮ বছর আগে নওয়াবেঁকী ফেরিঘাটের দক্ষিণ পাশে খোলপেটুয়া নদীর চরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করে। সেই গাছগুলো কেটে নদীর চর দখলের চেষ্টা করছে একটি চক্র।’
সাতক্ষীরা থেকে শ্যামনগরের ভেটখালী পর্যন্ত ৭৫ কিমি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজের প্রয়োজনীয় বালি সংরক্ষণে উক্ত চর দখলের চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
তারা জানান, উক্ত কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বালি সরবরাহ কাজের দায়িত্ব পাওয়া সহ-ঠিকাদার ও তার লোকজন এমন অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ নদীরক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান মিঠু, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রব (বাপ্পি), ছফিরুন নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক জি.এম নাসির উদ্দীন, বন বিভাগের সদস্য রেজোয়ান, বুলবুল হোসেন, মো. আব্দুল খালেক ও মো. শহীদুল ইসলাম।
এ ছাড়াও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবুল বাশার, গাজী আল আমিন, মো. হাসান মাহমুদ জনি ও মো. হোসেন মাহমুদ রনি প্রমুখ।
এদিকে চর দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রানী খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি যাতে আটুলিয়া খেয়াঘাটের দক্ষিণ পাশে সংরক্ষিত এই বনাঞ্চল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠতে পারে।’
উল্লেখ্য, প্রায় আটশ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা থেকে ভেটখালী পর্যন্ত সড়ক পুনঃনির্মাণসহ প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর এখন অপেক্ষা কাজ শুরুর। ইতোমধ্যে বালি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটি সুন্দরবন তীরবর্তী খোলপেটুয়া নদীর নওয়াবেঁকী খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকার চরে বালি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা চরের বিশালাকারের একটি জায়গাজুড়ে বাঁশ-বল্লী পুঁতে সেখানে বালির গাদা স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছে।
শাহাজান সিরাজ/সুমন/