৩০ বছর ধরে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেছি। কিন্তু গত ৬ মাস ধরে রাস্তাসহ ঘরের তিন পাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। হাঁটা-চলায় খুবই কষ্ট হচ্ছে। স্বামী-সন্তান ও নাতনিদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। রাস্তার জমি কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা বিক্রি করবে না।
কষ্ট থেকে বাঁচতে বসতঘর ও জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলাম রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের কাছে। সেটিও তারা কিনছে না।
আমার স্বামী রিকশাচালক। ওনারা বড়লোক। বাড়িতে প্রবেশে এক রাস্তা ব্যবহারে ওনাদের নাকি সম্মান নষ্ট হবে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন রোকেয়া বেগম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের গন্তব্যপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন মুক্তার বাড়ির আবুল বাশারের স্ত্রী। অভিযুক্ত মমিন উল্লাহ ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তার বাড়ির মৃত আলী আহমদের ছেলে। আবুল বাশার একই এলাকার মৃত মমিন উল্লাহর ছেলে।
জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে জমি কিনে বসতঘর নির্মাণ করেন আবুল বাশার। তিনি অন্যের জমিতে রাস্তা তৈরি করে চলাচল করতেন। কয়েক বছর আগে ওই রাস্তার জমি কিনে নেন প্রতিবেশী মমিন উল্লাহ। এরপরও ওই রাস্তা দিয়ে হাঁটাচলা করতেন আবুল বাশার। তবে কোনো কারণ ছাড়াই গত কয়েক মাস আগে মমিন উল্লাহ রাস্তায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আটকে দেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, থানা ও আদালতে একাধিক সালিশ হয়। প্রত্যেকবারই রাস্তা থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কারও কথা কিংবা আদালতের আদেশ কর্ণপাত করেননি মমিন উল্লাহ।
আবুল বাশার বলেন, ‘বসতঘর নির্মাণের পর থেকে রাস্তাটি ব্যবহার করছি, কোনো সমস্যা হয়নি। প্রতিবেশী মমিন উল্লাহ জমি কেনার পর রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। ঘরের তিন পাশে কাঁটাতারের বেড়া দেন। সড়কের ওই জমি আমিও কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মমিন উল্লাহ অতিরিক্ত দাম দিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে কিনে নেন। আমি মালিকের সঙ্গে বায়নাও করেছিলাম। পরে মালিক ওই টাকা আমাকে ফেরত দেন। সমস্যা সমাধানে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। ওনারা রাস্তাটির প্রতিবন্ধকতা খুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু মমিন উল্লাহ কারও কথা শোনেননি।
অভিযোগের সত্যতা জানতে চাইলে মমিন উল্লাহকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান তিনি। বাড়িতে থাকা তার ছেলের স্ত্রীরাও কোনো কথা বলেননি। তবে রিকশাচালক আবুল বাশারের পরিবারকে বিভিন্নভাবে গালমন্দ করেন। রাস্তা দিলে চলাচল করলে মারধর এবং ঝাড়ু দিয়ে পেটানোর কথা বলেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদ আলম রানা বলেন, চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরির কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।