ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের চালের বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চলছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহে কর্মজীবীদের ভরসা শিশুযত্নকেন্দ্র

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩৬ এএম
আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৪৬ এএম
ময়মনসিংহে কর্মজীবীদের ভরসা শিশুযত্নকেন্দ্র
ময়মনসিংহ জেলার শিশুযত্ন কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে এক রঙিন ও আনন্দময় পরিবেশ। সম্প্রতি ত্রিশালের ধলাইমন হাজিবাড়ি শিশুযত্নকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়িত সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্নকেন্দ্র (আইসিবিসি) প্রকল্প ময়মনসিংহের শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে। 

২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, সঠিক যত্ন ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করে এ প্রকল্প কর্মজীবী পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে। কর্মজীবী মা-বাবা, বিশেষ করে নারীদের জন্য প্রকল্পটি শুধু একটি আশ্রয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার এক কার্যকর উদ্যোগ।

গবেষণা অনুযায়ী, জীবনের প্রথম পাঁচ বছর শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ের সঠিক পরিচর্যা শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতা, সামাজিক আচরণ এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। আইসিবিসি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো সেই প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করা। প্রকল্পটির আওতায় ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা শিশুযত্ন কেন্দ্রগুলো স্থানীয় অভিভাবক ও শিশুদের জীবনে এনেছে এক নতুন মাত্রা।

জেলার শিশুযত্ন কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে এক রঙিন ও আনন্দময় পরিবেশ। ‘আপন ভুবন, রঙের ভুবন, গল্পের ভুবন, স্বপ্নের ভুবন’ প্রভৃতি কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের কল্পনা, সৃজনশীলতা এবং দলগত সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে খেলার মাধ্যমে গণিত, বর্ণমালা এবং গল্প শোনার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে।

সরেজমিন জেলার ত্রিশালের ধলাইমন হাজিবাড়ি শিশুযত্নকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট শিশুরা কেয়ারগিভারের তত্ত্বাবধানে বর্ণমালা শিখছে, খেলাধুলা করছে এবং হাসিখুশি পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে। কেয়ারগিভাররা শিশুদের হাতে-কলমে শিখতে উৎসাহিত করছেন। বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়, প্রতিটি শিশু নিজের টিফিন বক্সে আনা খাবার নিজে বসে খাচ্ছে। এতে তাদের আত্মনির্ভরশীলতা ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে।

মা সুমি আক্তার জানান, ‘আমার আড়াই বছর বয়সের ছেলে ওমর ফারুককে শিশুযত্নকেন্দ্রে ভর্তি করেছি। এই সেন্টারে ভর্তির মাত্র ছয় মাসের মধ্যে আমার ছেলে স্পষ্টভাবে কথা বলা শিখেছে। এর আগে সে খুব চুপচাপ ছিল। কিন্তু এখন সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশা করে খেলছে, শিখছে। আমি নিশ্চিন্তে কাজে মনোযোগ দিতে পারি, কারণ আমি জানি আমার সন্তান নিরাপদ স্থানে আছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো লাগছে, আমার ছেলে মোবাইলের প্রতি আসক্ত নয়। এখানে শরীরচর্চার মাধ্যমে তার শারীরিক বিকাশ হচ্ছে। দুপুরে বাসায় ফেরার পর আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। আমি মনে করি, শিশুযত্নকেন্দ্রটি আমার সন্তানের জীবনের জন্য বড় সহায়ক।

আরেক অভিভাবক সাবিহা আক্তার বলেন, ‘আমার ৩ বছর বয়সী মেয়ে এখন পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বাসায় ফিরে সে খেলার ছলে পড়ার অভ্যাস করছে। প্রতিবেশী শিশুরা যখন অলস সময় কাটায়, আমার মেয়ে তখন বই হাতে বসে যায়। তার আচরণও অনেক উন্নত হয়েছে।

শিশুযত্নকেন্দ্রের প্রাণশক্তি হলো কেয়ারগিভাররা। ধলাইমন হাজিবাড়ির কেয়ারগিভার রত্না আক্তার বলেন, ‘শিশুদের সঙ্গে প্রতিদিন কাজ করতে গিয়ে আমি তাদের মনের কথা বুঝতে পারি। তাদের সুখ-দুঃখ আমার নিজের পরিবারের মতো মনে হয়। প্রতি মাসে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন করি, যেখানে আমরা অভিভাবকদের সন্তানদের অগ্রগতি সম্পর্কে জানাই এবং ঘরে কীভাবে শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটানো যায় তা নিয়ে পরামর্শ দিই।

ত্রিশালের ডগুলিয়া পনো মাস্টারের বাড়ির কেয়ারগিভার ঝর্ণা আক্তার বলেন, ‘২৫ জন শিশুর হাসি আমার দিনের শক্তি। যখন দেখি, একটি শিশু কান্না থেকে হাসিতে ফিরছে কিংবা খেলাধুলার মাধ্যমে গণিত শিখছে, তখন মনে হয় এরা সবাই আমার নিজের সন্তান।

কেন্দ্রের তিন বছর বয়সী শিক্ষার্থী আদিতা আফরোজ সাবা বলে, ‘এখানে আসতে আমার খুব ভালো লাগে। খালামণিরা আমাদের অনেক আদর করে। আমরা খেলি, পড়ি, আর নিজের খাবার নিজে খাই।’

ত্রিশালের ডগুলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী শরীফ হোসেন বলেন, ‘সকালবেলা আমার স্ত্রী ছেলেকে সেন্টারে দিয়ে যায়, দুপুরে দাদি তাকে নিয়ে আসে। আমার ছেলে এত আনন্দে থাকে যে, কখনো কখনো বাড়ি ফিরতেও চায় না।

স্থানীয় চা ব্যবসায়ী স্বপন মিয়া জানান, ‘আমার ছেলে সেন্টারে থাকার সময় আমি নিশ্চিন্তে দোকানে বসতে পারি। এ সেন্টার আমাদের জীবন-জীবিকার বড় সহায়ক।

এদিকে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রচুর শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। আইসিবিসি প্রকল্প এ ঝুঁকি কমাতেও শিশুদের সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল কাদের জানান, ‘প্রতি বছর ময়মনসিংহে ৭৫০০ শিশুকে সাঁতার শেখানোর লক্ষ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে ৫০০০ শিশু সাঁতার শিখেছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সময়ে শিশুদের পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আমাদের সাঁতার প্রশিক্ষণ সেই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘শিশুযত্নকেন্দ্র কর্মজীবী নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করছে। এর ফলে পরিবার ও সমাজে তাদের মর্যাদা বাড়ছে, পাশাপাশি দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রকল্পের সহযোগী সংস্থা সিনার্গসের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রেজওয়ান হক খান বলেন, ‘শিশুরা সেন্টারে নিরাপদে থাকায় অভিভাবকরা মানসিক প্রশান্তি পান এবং তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ে। বিশেষ করে এ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মজীবী নারীরা নিশ্চিন্তে তাদের কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে পারছেন। ফলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তবে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও কেয়ারগিভাররা মনে করেন, এ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে শিশুদের মানসিক বিকাশে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। কেয়ারগিভার রত্না আক্তার বলেন, ‘শিশুদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক মায়ের মতো। প্রকল্প বন্ধ হলে শুধু শিশুরা নয়, আমরাও ভীষণভাবে আঘাত পাব।’ সূত্র: বাসস

ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের তারাগঞ্জে অবস্থিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর জেলার ডিআইজি (উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক) আমিনুল ইসলাম। 

ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস্ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউএসএ প্রবাসী মোঃ হাসানুজ্জামান হাসান এর নেতৃত্বে, সিইও ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস্ লিমিটেড এমএম খালিদ আহসান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ঘনিরামপুর গ্রামে অবস্থিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড পরিদর্শন করেন রংপুর জেলার বর্তমান ডিআইজি (উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক) আমিনুল ইসলাম। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক,নীলফামারী জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খান,তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন প্রমুখ।

পরিচালিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড মূলত একটি ১০০% রপ্তানিমুখী অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের জুতা তৈরি ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এটি উত্তরবঙ্গের এবং বিশেষ করে তারাগঞ্জ এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র ও বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।

এসএন/

বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম
দিনাজপুরের পাথরখনি। ছবি: খবরের কাগজ

বিস্ফোরক সংকটের কারণে প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) পাথর উত্তোলন কার্যক্রম। 

গত ১৯ মে থেকে খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও এখনও স্বাভাবিক হয়নি উৎপাদন কার্যক্রম।

খনি সূত্রে জানা গেছে, ভূগর্ভস্থ খনিতে পাথর উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত প্রধান বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সরবরাহ না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

খনি কর্তৃপক্ষ প্রথমে ১৫ দিনের মধ্যে কার্যক্রম পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ থেকে বিস্ফোরকবাহী জাহাজ আসতে বিলম্ব হওয়ায় আমদানি ও পরিবহন প্রক্রিয়াও দীর্ঘায়িত হয়েছে।

এর আগে ২০২২ ও ২০২৫ সালেও বিস্ফোরক সংকটের কারণে মধ্যপাড়া পাথরখনিতে উত্তোলন বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ থাকার নজির রয়েছে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি বিশেষায়িত পণ্য হওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে জাহাজ পেতে বিলম্ব হয়েছে। তবে বিস্ফোরকবাহী চালান ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। আশা করছি, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই পাথর উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও জানান, মোট ৩০০ মেট্রিক টন বিস্ফোরকের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৮৮ মেট্রিক টন সরবরাহ পাওয়া যাবে, যা দিয়ে দুই থেকে আড়াই মাস উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি চালানও দেশে পৌঁছাবে।

এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় পাথরের সরবরাহেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে খনিতে মজুত থাকা পাথর বিক্রি কার্যক্রম সীমিত আকারে অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি মধ্যপাড়া। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে চুক্তির আওতায় প্রতিদিন গড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়। খনিতে তিন শিফটে প্রায় ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন। তবে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সুলতান মাহমুদ/নাঈম

আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই
কৃষক কবির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

কবির হোসেন চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে তাকে ‘ভুয়া কৃষক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নানা ধরনের প্রচারণা চালায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তদন্ত করে। তদন্তে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, কবির হোসেন ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সাদাসিধে একজন মানুষ। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি এলাকার মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রেখেছিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। কবির হোসেনের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

জুয়েল/নাঈম

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট
সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ। ইনসেটে উদ্ধার আইডি কার্ড। ছবি : খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের রিয়াদ কবিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী বাদি হয়ে মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের ইকবাল কবিরের ছেলে রিয়াদ কবিরের বাড়িতে একই এলাকার পিয়ার হোসেন,  মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন (৪৮), লিটন হোসেন, ফর্মা হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন নিয়ে হামলা করে। 

এসময় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরকে মারধর করে। এক পর্যায়ে বাড়ীতে মাদক রয়েছে বলে আমার ঘরবাড়ির আসবাবপত্র তল্লাশি করে। আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে মামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময়  তাদের একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়। আইডি কার্ডে অজয় কুমার জয়, পদবী-সেপয়, ডিপার্টমেন্ট অফ নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ, আইডি নং- ৪৯১৩২৫, জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৪২১৮৯৫৩৪৮৯ পাওয়া যায়।

ফেলে যাওয়া আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য শরীফ হোসেন নামের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সিপাহি পরিচয়ে আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে।

এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি শরীফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আইডি কার্ড ফেরতের জন্য কাউকে ফোন দেননি বলে দাবি করেন। তবে অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। 

ব্যবসায়ী রিয়াদ কবির জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে এলাকার একটি চক্র পুলিশের সোর্সের মাধ্যমে তার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য বাড়িতে হামলা করে। মাদক উদ্ধারের নামে আসবাবপত্র তছনছ করে। হামলাকারীরা নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযুক্ত পিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তিনদিন ধরে ওই এলাকায় তিনি যান না। কেউ তাকে দেখছেন প্রমাণ দিতে পারবে না। তবে শুনেছি প্রশাসনের লোকজনকে রিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করেছে। 

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে হয়রানি মারাক্তক অপরাধ। আসল ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এসএন/

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩ কোটি ৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৪৬৮ টাকা ২৩ পয়সা প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন। 

একই সাথে অর্থবছরের রাজস্ব আয় ১৬ কোটি ৫৮ লক্ষ ২১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা, রাজস্ব ব্যয়: ১৩ কোটি ২০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, উদ্বৃত্ত ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ ৯১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা। আর উন্নয়ন খাতে মোট উন্নয়ন আয় ২৬ কোটি ৫১ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা। মোট উন্নয়ন ব্যয় ২৩ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। উদ্বৃত্ত ২ কোটি ৯৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই উন্মুক্ত বাজেট উপস্থাপন করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম।

উন্মুক্ত বাজেটে উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এবারের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি।

বাজেট ঘোষণাকালে পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম  বলেন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাস্তাঘাট, ড্রেন, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়নে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। কোনো ধরনের নতুন কর চাপানো হয়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর সহকারী প্রকৌশলী এইচ. এম. কামরুজ্জামান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জেবিন সুলতানা, হিসাব রক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন, কার্য সহকারী মোহাম্মদ আব্দুল আহাদসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।

লিটন সরকার বাদল/এসএন