রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার দরিখরবোনা-কাদিরগঞ্জ এলাকায় ‘ডক্টর ইংলিশ’ নামে একটি কোচিং সেন্টারে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া ওই অভিযান চলে শনিবার সকাল পর্যন্ত। আটক তিনজন হলেন মোন্তাসেরুল আলম আনিন্দো, মো. রবিন ও মো. ফয়সাল। বিকেলে আটক ব্যক্তিদের বোয়ালিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটক মোন্তাসেরুল আলম আনিন্দো রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের ভাতিজা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দীর্ঘ এক মাসের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে রাজশাহী শহরের দরিখরবোনায় ওই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুটি বিদেশি রিভলবার, গুলি, একটি এয়ারগান, ছয়টি দেশীয় অস্ত্র, সামরিক মানের দূরবীণ ও অপটিক্যাল স্কোপ, বিদেশি ধারালো ডেগার, উন্নত মানের ওয়াকিটকি সেট, জিপিএস, টিজার গান, দেশি-বিদেশি কার্টিজ, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হতে পারে এমন নাইট্রোজেন কার্টিজ (যা বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কর্তৃক নিষ্ক্রিয় করা হবে) এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আইএসপিআর জানিয়েছে, সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক কিংবা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া ১১টি নাইট্রোজেন কার্টিজ রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে নিষ্ক্রিয় করে। একটি ডুবুরি দল কোচিং সেন্টারের সামনে পুকুরে তল্লাশি চালায়। এই অভিযানে আরএমপি, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং ক্রাইসিস রেসপন্স টিমও (সিআরটি) অংশ নেয়।
আরএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেন, কাদিরগঞ্জ দরিখরবোনায় একটি বাড়ি ও কোচিং সেন্টারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান শেষে আটক ব্যক্তিদের থানা-পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।