ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির যে নির্দেশনা তৃণমূলে অভ্যুত্থান শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ পর্তুগাল এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ: রবার্তো মার্তিনেস বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে: ইবি উপাচার্য ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং বাউফল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে জাবিতে রোকনুজ্জামান খান ও বেগম রোকেয়ার জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য পাবনায় আমবাগানে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মাগুরায় ‘বাঘ’ আতঙ্ক, বন বিভাগ বলছে মেছো বিড়াল সেন্টমার্টিনে ৩২ কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৬ বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ দিনাজপুরে দিলশাদ, ভিন্ন স্বাদ ও কাচ্চি ভাইকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা যেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ঢাকায় গ্রেপ্তার নেইমার কি আর খেলবে বিশ্বকাপ? পা ভাঙা রাজহাঁস নিয়ে থানায় নারী এমবাপ্পে, ইয়ামালদের যুগেও মেসিই ফুটবলের ‘ফাইনাল বস’ রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৯০ লাখ টাকার অবৈধ সেগুন কাঠ জব্দ হারিয়ে যেতে বসা হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম নকআউটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? জেনে নিন রাউন্ড অব ৩২-এর সমীকরণ বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও! কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান বেলজিয়াম দলে ফিরছেন জেরেমি ডোকু

কুমিল্লায় গর্ত ও খানাখন্দে বেহাল ১২০০ কিমি সড়ক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৫, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৫, ০৯:২৯ এএম
কুমিল্লায় গর্ত ও খানাখন্দে বেহাল ১২০০ কিমি সড়ক
বৃষ্টির পানি জমে থাকায় চালকরা গর্তের গভীরতা বুঝতে পারেন না। এমনই এক গর্তে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চাকা আটকে যায়। যাত্রী ও চালক মিলে ধাক্কা দিয়ে অটোরিকশাটি তোলেন। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার রসুলপুর বাজার এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড থেকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর বাসস্ট্যান্ডের দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। সদর উপজেলার একাংশ, বুড়িচং এবং ব্রাহ্মণপাড়া- এই তিন উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। 

কিন্তু গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়কটির শতাধিক স্থানে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গর্ত আর খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ফলে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। শুধু এ সড়কই নয়, জেলাজুড়ে প্রায় ১২০০ কিলোমিটার সড়কে এমন বেহাল চিত্র দেখা গেছে। মূলত গেল বছরের ভয়াবহ বন্যায় কুমিল্লার ১৭ উপজেলার ১৪টিতেই সড়কের মারাত্মক ক্ষতি হয়; সেই ক্ষত এখনো রয়ে গেছে। বছর ঘুরে আবার বর্ষা শেষে শরৎ এলেও সড়কের সেই ক্ষতচিহ্ন এখনো মেরামত হয়নি।

জানা গেছে, শহরতলী থেকে গ্রাম- সবখানে সড়কের ভয়াবহ অবস্থা। ভাঙা রাস্তায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার ভয়ে এসব সড়কে যানচলাচল অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগও (এলজিইডি) সড়কগুলো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

সম্প্রতি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া-রহিমানগর সড়কে গিয়ে সড়কের দুর্বিষহ চিত্র দেখা যায়। পার্শ্ববর্তী চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার রহিমানগর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়কটি কুমিল্লার চান্দিনার মাধাইয়া বাসস্ট্যান্ডে এসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে। এটি দুই জেলার সংযোগ সড়ক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটিতে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের বড় গর্তগুলোতে পানি জমে জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন উল্টে প্রতিদিনই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে যাত্রীরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক থেকে নেমে নিজেরাই ঠেলে যানবাহন পার করেন। বন্ধ হয়ে গেছে চান্দিনার নবাবপুর থেকে ঢাকা রুটে চলাচল করা যাত্রীবাহী বাসও। ২৫ কিলোমিটারের ওই সড়কটির ২০ কিলোমিটারই কুমিল্লা অংশে। সড়কের রসুলপুর বাজার ও সিঙ্গাড্ডা এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে সৃষ্ট গর্তগুলো দিনে দিনে বড় হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে ওই গর্তগুলোতে পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতাও চালকরা ধারণা করতে পারছেন না। গর্তগুলোতে প্রতিদিনই যানবাহন আটকে কিংবা উল্টে যাচ্ছে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে বেড়েছে গাড়ি ভাড়া।

চান্দিনা উপজেলার রসুলপুর বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হাসান বলেন, ‘আমরা এখানে ব্যবসা করি। প্রতিদিনই দোকানের সামনের সড়কের গর্তগুলোতে ২/৪টি ইজিবাইক-সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে যায়। আমরা দোকান ফেলে তাদের টেনে উঠাই। আবার উল্টে যাওয়া গাড়িগুলোও উঠাই। এমন পরিস্থিতিতে কেউ এসে এক মুঠ কংক্রিটও ফেলছে না।’

বুড়িচং উপজেলার জগতপুর গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুল মুমিন বলেন, ‘কুমিল্লা-মিরপুর সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে- এখন আর স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটে, গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে দিগুণেরও বেশি। ফলে অনেক চালকই এ সড়কে আর গাড়ি চালাচ্ছেন না। যাত্রীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

সরেজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১২০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে, যেখানে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। কোনো কোনো সড়কে স্বাভাবিক চলাচলও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের কোনোটি সংস্কারের এক বছরের মধ্যে আবারও বেহাল হয়ে পড়েছে। আবার কোনোটিতে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার কাজ হচ্ছে না। এতে গর্ত আর খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লাখো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) তথ্যমতে, তাদের অধীনে জেলায় ১০ হাজার ২০০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৩১ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ছিল। চলতি অর্থবছরে ৩৬০ কিলোমিটার সড়কের মেরামত হলেও বাকি রয়েছে ১১৭০ কিলোমিটার পাকা সড়কের সংস্কার কাজ। এ ছাড়াও জেলার গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ স্থানের কাঁচা সড়কগুলোতে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। কাঁচা-পাকা মিলিয়ে জেলার ১২০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক ভাঙাচোরা। বেহাল এসব সড়কের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কও রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ১২০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রামীণ সড়কের বেহাল অবস্থা কুমিল্লা আদর্শ সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, মনোহরগঞ্জ, লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, সদর দক্ষিণ, বরুড়া, চান্দিনা, দেবিদ্বার ও মুরাদনগরে। এসব উপজেলার গ্রামীণ সড়কে দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে আছে। দিন দিন গর্তের গভীরতা বাড়ছে।

এলজিইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আশরাফ জামিল বলেন, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত এবং অতি বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার ১৫৩১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। গুরুত্ব বিবেচনায় চলতি বছর বরাদ্দ হওয়া অর্থে ৩৬০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। তবে এখনো ১১৭০ কিলোমিটার সড়কের কাজ বাকি রয়েছে। যা দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার প্রয়োজন। এসব সড়কের উন্নয়নে সরকারের কাছে বাজেট দেওয়া হয়েছে। অর্থ পেলেই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।

ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
ইউএনওর আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার কারসাজি
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি : খবরের কাগজ

বরগুনার তালতলী উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গোপন যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। 

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে কৌশলে দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদারেরা। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি ই-জিপি আইডি ব্যবহার করে টেন্ডার সম্পন্ন করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তালতলীতে এডিপির চতুর্থ ধাপে ৩৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা পূর্ববর্তী ঘাটতির জন্য সংরক্ষণ রেখে বাকি অর্থ থেকে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার প্রকল্প পিআইসি পদ্ধতিতে এবং ২১ লাখ ৯৬ হাজার টাকার ১৭টি প্রকল্প আরএফকিউ পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এ সংক্রান্ত তালিকায় ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীর স্বাক্ষর রয়েছে।

তবে অভিযোগ উঠেছে, আরএফকিউ পদ্ধতির নিয়ম উপেক্ষা করে ১৭টি প্রকল্পকে চারটি প্যাকেজে ভাগ করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে পরিচালনা করা হয়, যাতে সাধারণ ঠিকাদারেরা কোনো তথ্যই জানতে না পারেন।

স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উপজেলায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন নিবন্ধিত ঠিকাদার থাকলেও এ টেন্ডার সম্পর্কে তাদের অধিকাংশই অজ্ঞাত ছিলেন। 

তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তথ্য গোপন রেখে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পাঁচটি নির্দিষ্ট লাইসেন্স ব্যবহার করে নামমাত্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে মেসার্স প্রিন্স এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স নাইম এন্টারপ্রাইজ দুটি করে প্যাকেজের কাজ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে কাজের নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইউএনও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দক্ষ নন, তাই তার আইডি ব্যবহার করে তিনি নিজেই কাজ সম্পন্ন করেছেন। 

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচটি লাইসেন্স থেকে দরপত্র নেওয়া হয় এবং সেখান থেকেই কাজ দেওয়া হয়েছে।

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বরাদ্দ পাওয়ার পর কমিটির সভায় প্রকল্প অনুমোদন করা হয় এবং পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

মহিউদ্দিন অপু/অন্তরা/

টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৪ এএম
টেকনাফে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে সরে যেতে মাইকিং
পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি। ছবি: খবরের কাগজ

টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করছে উপজেলা প্রশাসন। 

রবিবার (২২ জুন) বিকেলে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লানপাড়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। স্থানীয়দের সচেতন করতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত) কক্সবাজার জেলায় মোট ১১১ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, বাহারছড়া, সদর ইউনিয়ন এবং পৌরসভা এলাকার পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবৈধভাবে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, ভোর থেকে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আমার নির্বাচিত এলাকার নিম্নাঞ্চল রঙ্গিখালী, সুলিচপাড়া, চৌধুরীপাড়া ও লামারপাড়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হলো কিছু অসাধু ব্যক্তির দখলে থাকা খালগুলো। এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে দ্রুত খাল খননের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায়, সামনে আরও ভারী বৃষ্টিপাত হলে জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করবে এবং হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়বে।

শাহীন/আজহার/

বাউফল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩২ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম
বাউফল উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি কারাগারে
ছবি: খবরের কাগজ

মারামারি ও ছিনতাইয়ের মামলায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২২ জুন) পটুয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন করিমের আদালতে জিআর ৮৯/২৬ নম্বর মামলায় জামিন আবেদন করেন আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে শহরের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে রাতের আঁধারে হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফজলুল হক মৃধা নামের এক ব্যক্তি মামলা করেন।

তিনি বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি তার ভাই ও সহযোগীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দোকানে ঢুকে ভাঙচুর, মারধর করে এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলায় আহতদের প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় বাউফল থানায় উপজেলা ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়। ওই মামলার মোট আসামি সাত জন।

মশিউর মিলন/থিওটোনিয়াস/

কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২০ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২১ এএম
কুড়িগ্রামে ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর সীমান্ত এলাকার একটি বাড়ির ধানের গোলা থেকে বিপুল পরিমান ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে কচুকাটা থানা পুলিশ। জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে প্রসাধনী ও খাদ্যদ্রব্য। 

পুলিশ জানায়, সোমবার (২২ জুন) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ সুপার ভুরুঙ্গামারী সার্কেলের নেত্রিত্বে নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম ঝাউকুটির চোরাকারবারি জহুরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় জহুরুলের বাড়ির ধানের গোলায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস,পাপড় ও প্যান্ট পিস পাওয়া যায়। পরে সেগুলো জব্দ করে থানায় আনা হয়।

অভিযানের সময় চোরাকারবারি জহুরুল বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

তবে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন জানান , নারায়ণপুর ইউনিয়ন একটি দূর্গম এলাকা। পুলিশ সেখানে খুব সহজে যেতে পারে না। নদী আর চরবেষ্টিত সীমান্ত সংলগ্ন এই ইউনিয়ন চোরাকারবারিদের ট্রানজিট। এখানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সিরাজ/অন্তরা

পাবনায় আমবাগানে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৩১ এএম
পাবনায় আমবাগানে মিলল নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার আমিনপুর থানার  দারিয়াপুর এলাকায় নিখোঁজের দুই দিন পর মো. রহিম খান (৬৫) নামের এক লেবু ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দরিয়াপুর গ্রামের একটি আমবাগান থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

রহিম খান বেড়া উপজেলার টাংবাড়ি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

আমিনপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হোসেন জানান, সোমবার সকালে দরিয়াপুর গ্রামের স্থানীয় আম ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের বাগানে আম পাড়তে যান কিছু লোক। সেখানে তারা গাছে রহিম খানের মরদেহ ঝুলতে দেখে তাৎক্ষণিক থানায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসআই আওলাদ হোসেন আরও জানান, শনিবার (২০ জুন) সকালে রহিম খান বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। দুই দিন নিখোঁজ থাকার পর আজ তার মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি দুই থেকে তিন দিন আগে থেকেই সেখানে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আমিনুল জুয়েল/তামান্না রুপা/