গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় উপজেলা পরিষদ ভবন থেকে ৬০০ মিটার দূরত্বে একটি মালিকানা ভবনের নিচতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালাচ্ছে উপজেলা নির্বাচন অফিস (ইসি)। স্বল্প জায়গা এবং যাতায়াত পথ জটিল ও সরকারি বাসভবনের পেছনে নির্বাচন অফিসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর যেন একেবারেই বেমানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমান নির্বাচন অফিসের দক্ষিণে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘনবসতিপূর্ণ ঘরবাড়ি। উত্তরে সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবন। পশ্চিমে ঘন বনে আচ্ছাদিত জমি। পূর্বে পুকুর (জলাশয়)। এসবের মাঝে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাসা ভাড়া নিয়ে ২০২০ সাল থেকে চলছে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সব কার্যক্রম।
তিনতলা বিশিষ্ট ভবনের নিচতলায় ছোট্ট দুটি রুম ও একটি বারান্দা। সব মিলিয়ে জায়গার অভাবে জনসেবা কার্যক্রম চালাতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। ২০১৯ সালে পুরোনো নির্বাচন ভবন ভেঙে ফেলার পরে নতুন করে আর নির্বাচন অফিসের জন্য নিজস্ব ভবন বা কার্যালয় তৈরি করা হয়নি। এমনকি উপজেলা পরিষদ ভবনেও কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ভবনে সব দপ্তর নিজস্ব কক্ষ পেলেও বঞ্চনার কাতারেই রয়ে গেছে নির্বাচন অফিস। নিজস্ব ভবন তৈরির জন্য জমি বরাদ্দ থাকলেও নানা সমস্যার কারণে সুরাহা মিলছে না। জনসেবায় দপ্তরটি (নির্বাচন অফিস) জেলার মধ্যে অন্যান্য উপজেলা থেকে এগিয়ে থাকার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার অভাবে সেটি পিছিয়ে রয়েছে।
সংসদীয় আসনের (গোপালগঞ্জ-৩) আওতায় রয়েছে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ এলাকা হওয়ায় বিগত নির্বাচনগুলোতে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না আসনটিতে। তবে প্রতিবারের থেকে এবারের নির্বাচনি পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথম সারির রাজনৈতিক দলীয় প্রার্থী ছাড়াও রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এসব প্রার্থীর মধ্যে টুঙ্গিপাড়ায় রয়েছে বেশ কয়েকজন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দলীয় নেতা-কর্মীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে কার্যালয়টিতে। তবে অফিসে পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে জনসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে নবাগত উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘উপজেলার মধ্যে নির্বাচন অফিস একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটি একটি ভাড়াটিয়া বাসায় চলছে, যা দৃষ্টিকটু। এখানে যাতায়াত পথও গোলকধাঁধার মতো বেশ জটিল। অনেক সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সেবাভোগীদের অফিস খুঁজে বের করতেই কষ্ট হয়। এ ছাড়া নির্বাচন অফিস একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় নাগরিক সেবামূলক দপ্তর। সুতরাং এটির পরিচালনা পদ্ধতিও নির্দলীয় হতে হয়। কিন্তু ভাড়া করা বাসায় কার্যক্রম চালালে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হিসেবে নির্বাচন অফিসের নিজস্ব ভবন খুবই প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যেই আলোচনা করেছি। আপাতত নির্বাচন অফিসটি সরকারি কোনো ভবনে স্থানান্তর করার চেষ্টা করছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিজস্ব ভবন তৈরির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’