সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় শ্রীপুর পাথরমহাল পাশের পর্যটনকেন্দ্র রাংপানির পাথর রাঙা। সেই সব পাথর উদ্ধার করে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার বাংলাবাজার ও শ্রীপুর চা-বাগান এলাকায় টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করে ১৪ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) জর্জ মিত্র চাকমার নেতৃত্বে টাস্কফোর্সের অভিযানে সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) ফারজানা আক্তার লাবনী, জৈন্তাপুর থানার পুলিশ ও সিলেট ব্যাটালিয়ন শ্রীপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযান সংশ্লিষ্ট রা জানান, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পাশে বাংলাবাজার এলাকায় কয়েকটি স্টোন ক্রাশার মিলের ডেরাতে ছিল রাঙাপাথর। সেগুলো শ্রীপুর পাথরমহালের রাংপানি নদীর পাথর বলে শনাক্ত হলে টাস্কফোর্সের অভিযানে জব্দ করা হয়। প্রায় দুই হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। এরপর শ্রীপুর চা-বাগানের পাশে মজুদ করে রাখা আরও ১২ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়।
অভিযান শেষে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাবাজার ও শ্রীপুর চা-বাগান এলাকা থেকে মোট সাড়ে ১২হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পাথর রাংপানি নদীতে পুনঃস্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া, শ্রীপুর চা-বাগান এলাকা থেকে জব্দ করা ১২ হাজার ঘনফুট পাথর জাফলং পিয়াইন নদীতে পুনঃস্থাপন করা হবে জানিয়ে ইউএনও আরও বলেন, গত সপ্তাহে শ্রীপুর পাথরমহাল থেকে জব্দকৃত ২০ হাজার ঘনফুট পাথরসহ বাংলাবাজার এলাকায় আরও সাড়ে ১১ হাজার ঘনফুট জব্দকৃতসহ মোট ৩০ হাজার ঘনফুটের অধিক পাথর প্রশাসনের তদারকিতে রাংপানি নদীতে পুনঃস্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, ষাড়ের দশক থেকে নব্বই দশক পর্যন্ত সিলেটের জৈন্তাপুরের রাংপানি সিনেমা স্পট হিসেবে পরিচিত। এ সুবাদে পর্যটকেরা সেখানে যেতেন। শ্রীপুর পাথরমহালের অধীন দুষ্টনন্দন এই স্থানটি পাথরখেকোদের নজরে পড়ে। সাদা পাথর লুটের পর গণমাধ্যমে রাংপানির চিত্র ওঠে এলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা সেখানকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর লুটের পাথর উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
শাকিলা ববি/মাহফুজ