ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গ্রেপ্তার আব্দুর রশিদ (৭০) নামের এক ব্যক্তিকে থানায় খাবার দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন তার স্ত্রী। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে হালুয়াঘাট থানায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে বিরোধে আদালতে একটি সিআর মামলা করেন কলনীপাড়া গ্রামের শরীফা খাতুন নামের এক নারী। সোমবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাদী শরীফা খাতুনকে নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বিবাদীর বাড়িতে যান। এসময় পুলিশের সামনেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ।
এই বিবাদ থামাতে গেলে এসআই শহিদুল ইসলামের চোখে আঘাত লাগে। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুনকে ঘটনা জানান। পরে উপ-পরিদর্শক শুভ্র সাহা ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান। আব্দুর রশিদকে গ্রেপ্তারের পর শারীরিক নির্যাতন করেন শুভ্র সাহা। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে গ্রেপ্তার আব্দুর রশিদের স্ত্রী জাহানারা বেগম থানায় তার স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে যান। এসময় জাহানারা বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেলে ওই দম্পতিকে ময়মনসিংহ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী দেলায়ার হোসেন বলেন, সিআর মামলায় পুলিশ তদন্তে এলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাদী শরিফা আবদুর রশিদকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারেন। এসময় আবদুর রশিদ ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফার দিকে তেড়ে গেলে এক পুলিশ সদস্যের গায়ে আঘাত লাগে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক মাফ চেয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান।
বক্তব্য জানতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ্র সাহা বলেন, গ্রেপ্তারের পর আব্দুর রশিদকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর ইসলাম হারুন খবরের কাগজকে বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আব্দুর রশিদ, তার স্ত্রী জাহানারা বেগমসহ চারজনের নামে মামলা করেছেন। ওই মামলায় স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কামরুজ্জামান মিন্টু/মাহফুজ