ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জন্মদিনের আগের রাতে ঝলমলে মেসি রাউন্ড ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে? আর্জেন্টিনার ৫ গোলের ৫টিই মেসির পাঁচ বছর পর আবারও আইসিসির মাসসেরা মুশফিক বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোলের কীর্তিতে নাম লেখালেন মেসি মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল

পাহাড়ে চোখ রাঙাচ্ছে ম্যালেরিয়া

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০৮:১৯ এএম
আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০৮:২২ এএম
পাহাড়ে চোখ রাঙাচ্ছে ম্যালেরিয়া
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের বেডে মশারি টানিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন সদর উপজেলার বালুখালীর বাসিন্দা জিকু চাকমা। ছবি: খবরের কাগজ

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলায় এই রোগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। গেল সাত মাসে পুরো জেলায় প্রায় আড়াই হাজার মানুষ মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া দুই শিশু মারা গেছে। এতে জেলাজুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থার জন্য দুর্গম অঞ্চল, মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব ও স্বাস্থ্য বিভাগের জনবল সংকটকে দায়ী করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূলের যে লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছে তা বাস্তবায়নে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের এক-দশমাংশ অঞ্চল পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকা। প্রতিবছর এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ম্যালেরিয়া প্রকোপ দেখা দেয়। বিশেষ করে ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে রাঙামাটি জেলার সীমান্তবর্তী জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় ম্যালেরিয়া ছড়ায় বেশি।

ম্যালেরিয়া শনাক্ত হওয়ার পর রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন সদর উপজেলার বন্দুকভাঙা এলাকার বাসিন্দা কলেজশিক্ষার্থী নয়ন চাকমা (১৮)। তিনি বলেন, ‘১৬ আগস্ট জ্বর আসে। ২০ আগস্ট পরীক্ষা করে ম্যালেরিয়া ধরা পড়ে। ওই দিনই এখানে ভর্তি হই।’ নয়ন চাকমার মা মালতি চাকমা বলেন, ‘বাড়িতে থাকলে আমরা মশারি টানাই। কিন্তু ঘরের বাইরে গেলে মশা কামড়ায়। সন্ধ্যা হলেই মশার উৎপাত বেড়ে যায়।’

হাসপাতালে ভর্তি থাকা সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী পারমী চাকমার বাবা বকুল চাকমা বলেন, ‘আমার মেয়ের ২০ দিনের মতো জ্বর ছিল। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। জ্বর কমছিল না। রক্ত পরীক্ষা করলে ম্যালেরিয়া ধরা পরে। পরে হাসপাতালে ভর্তি করি।’

হাসপাতালের বেডে মশারি টানিয়ে শুয়ে আছেন সদর উপজেলার বালুখালীর বাসিন্দা জিকু চাকমা (২৫)। বললেন, ‘জ্বর হওয়ার পাঁচ দিন পর রক্ত পরীক্ষা করেছি। তখন ম্যালেরিয়া ধরা পড়ে। ডাক্তার এখানে ভর্তি হতে বলেন। বাড়ির সবাই মশারি ব্যবহার করে। শুধু আমি মাঝে মাঝে ব্যবহার করি। এ জন্যই মশা কামড়েছে।’

বাঘাইছড়ি উপজেলার রনজ্যোতি চাকমা (৫০) নিজের বাগানে হলুদের চাষ করেন। তার ধারণা সেখানে কাজ করার সময় তিনি মশার কামড়ে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখন তিনি রাঙামাটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বলেন, ‘বাগানে প্রায়ই যেতে হয়। বাসায় মশারি টানাতে পারি, ওখানে তো সেটা সম্ভব না। হয়তো সেখানেই আক্রান্ত হয়েছি।’

সিভিল সার্জন অফিস বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে রাঙামাটির ১০ উপজেলায় ২ হাজার ৪২৬ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে শুধু জুন মাসে সর্বোচ্চ ৯৮৬ ও জুলাইয়ে ৭৬৪ জন আক্রান্ত হন। এ ছাড়া গত ২০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাঙামাটির বিলাইছড়ির সাড়ে চার বছর বয়সী প্রত্যাশা তঞ্চঙ্গা মারা যায়। আর ১২ জুলাই রাঙামাটি সদর হাসপাতালে মারা যায় জেলার বন্দুকভাঙার বাসিন্দা দশ বছরের সুদীপ্তা চাকমা।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালে ১ লাখ ৭২ হাজার ৪২৪ জনের ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করা হয়। শনাক্ত হয় ৯ হাজার ৬২৪ জন। মৃত্যু হয় একজনের। তবে ২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ম্যালেরিয়ায় কোনো মৃত্যুর রেকর্ড স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নেই। 

২০১৬ সালে একজনের মৃত্যুর আট বছর পর চলতি বছর ম্যালেরিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে পাহাড়ে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এক বছরে প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে একজনের বেশি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই পর্যবেক্ষণে পার্বত্য তিন জেলা রয়েছে ম্যালেরিয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে। এমন পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূলে সরকারের যে লক্ষ্য তা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে ২০১৭ সালে জেলায় ৮২৮৭ জন ম্যালেরিয়া রোগী শনাক্ত হয়। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ৩০১৪ জন, ২০১৯ সালে ৬০৬৬ জন, ২০২০ সালে ১৩৯০ জন, ২০২১ সালে ১৫৫৬ জন, ২০২২ সালে ৩২১৯ জন। ২০২৩ সালে ৪৭১৪ জন এবং ২০২৪ সালে ৩৭৬৮ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী জেলায় শনাক্ত হয়। 

ম্যালেরিয়াপ্রবণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শওকত আকবর খান। তিনি বলেন, ‘ম্যালেরিয়া নির্মূলে প্রান্তিক অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারিভাবে সমন্বিত বিশেষ কাজ করতে হবে। রাতে মশারি ব্যবহার করা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, সকাল ও সন্ধ্যায় মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলেই ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।’

গত বছরের তুলনায় এবার ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা। তিনি বলেন, ‘সাধারণত এই সময় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ একটু বাড়ে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম চলমান আছে। আমাদের নির্দেশনা রয়েছে, ম্যালেরিয়া সন্দেহ হলেই প্রত্যেককে যেন পরীক্ষা করানো হয়।’

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন
ছবি তোলার আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনী এসে পৌঁছায়নি। ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

সোমবার (২২ জুন) থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে এক সপ্তাহের জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনা মোতায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। রাতের মধ্যে তারা গোপালগঞ্জে পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কত প্লাটুন বা কতজন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

এদিকে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জে এখন পর্যন্ত কোনো প্রভাব পড়েনি। পরিস্থিতি আশঙ্কামুক্ত থাকায় জেলার জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ছাড়াই বাইরে বের হচ্ছেন এবং যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাত সোমবার সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের অনুরোধ জানান। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানিয়েছেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আগামী ২৩ জুনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এ জেলার মানুষ শান্তিপ্রিয়। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তারপরও জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করছি, রাতের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপালগঞ্জে পৌঁছে যাবেন।’

বাদল/রিফাত/

মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮
ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া মাহী (১৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ও আইসিটি শিক্ষকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২২ জুন) সকালে এ ঘটনায় নিহতের মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ (১৬), তার মা রুমা (৪৫), বোন মিম (২২), মাসুদ (৩৫), সুজন (৩০), রাসেল (৩০), সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম (৫৯) এবং আইসিটি শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াকুব মোল্লা (২৯)।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় নিচতলায় অবস্থিত অষ্টম শ্রেণির ‘ক’ শাখার একটি শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফের সঙ্গে মারিয়ার আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে ১৫ জুন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে এনে মুচলেকা নেয় এবং দুজনকেই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দিন দুপুরের পর থেকেই মারিয়া নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের ছয় দিন পর গত রবিবার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থান-সংলগ্ন ঝোপে স্থানীয়রা একটি স্কুলব্যাগ দেখতে পান। পরে সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে মারিয়ার খণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সোমবার বিকেলে মারিয়ার মরদেহ স্থানীয় লক্ষীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে, দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামে আলিফের বাড়িতে উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর চালায়।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মারিয়া হত্যা মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আসাদ জামান/রিফাত/

সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও খাগরিয়ার ত্রাস হিসেবে পরিচিত হাসান মাহমুদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গনিপাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হাসান মাহমুদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের ভাগিনা। তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানা এবং চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও ও কোতোয়ালি থানায় সর্বমোট ৬টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাসান মাহমুদ গনিপাড়ায় অবস্থিত তার বাড়ির সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে, সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির আমিন ও রোমান হোসেনসহ পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে তাকে আদালতের কাছে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। এ ছাড়াও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সবসময়ই তৎপর রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আকতার হোসেন ও সাবেক চেয়ারম্যান মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তখন আকতার হোসেনের প্রধান সহযোগী হিসেবে হাসান মাহমুদের নাম উঠে আসে।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার সময় আসল র‍্যাব সদস্যদের হাতে বেলাল হোসেন (৪৫) নামে এক নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে চৌমুহনী চৌরাস্তার জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বেলাল হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার পানপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে প্রতারক বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থানায় রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

মজনু/রিফাত/

সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী
ছবি: খবরের কাগজ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জে পৌঁছেছে সেনাবাহিনী। এদিকে, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় পৌঁছায় সেনাবাহিনীর এ দল। আজ থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে সেনাবাহিনী।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করতে এক সপ্তাহের জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে এসে পৌঁছায়। তবে এই সেনাবাহিনী দলে কত প্লাটুন বা কতজন সেনাসদস্য রয়েছেন তা নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

এদিকে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করেছে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জে এখনো কোনো খারাপ প্রভাব পরেনি। আশঙ্কামুক্ত থাকায় জেলার জীবনযাত্রা ছিল পুরোপুরি স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ছাড়াই বাইরে বের হয়েছেন। যান চলাচলও ছিল স্বাভাবিক।

সোমবার সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাতের লেখা এক চিঠিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবীবুল্লাহ জানিয়েছে, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আগামীকাল ২৩ জুনও জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এ জেলার মানুষ শান্তিপ্রিয়, তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হবার কোনো আশঙ্কা নেই। তবুও জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে জেলায় পৌঁছেছে।

বাদল সাহা/নাঈম