জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পর চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটে গোলাগুলির ঘটনায় ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলা করেছেন এক গুলিবিদ্ধ ছাত্র। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ১৮২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য, কাউন্সিলর, ব্যবসায়ী, সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা, এমনকি ১৪ জন সাবেক নারী কাউন্সিলরও। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মামলায় আসামির তালিকায় আছে একজন মৃত ব্যক্তির নাম। যিনি মারা গেছেন আরও চার বছর আগে।
বাদীর দাবি, ‘নিজস্ব সোর্স ও যাচাই-বাছাই করে আসামির তালিকা করেছেন। হয়তো কোনো কারণে মিস্টেক হয়েছে।’ বাদী আরও দাবি করেন, চিকিৎসা গ্রহণ এবং ‘মামলায় নিরীহ, নিরপরাধী লোক যেন অন্তর্ভুক্ত না হয়’ তাই মামলায় কালক্ষেপণ হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক আসামির নাম বিশ্বস্ত সূত্র এবং বাদী নিজে যাচাই করেছেন।
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে এই নালিশি মামলার আবেদন করেন চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্সেস অব হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র এ কে এম নুরুল্লাহ। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানার বগাদিয়া বিন্নাগাঁও এলাকার মো. রতন মিয়ার ছেলে।
মামলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু। তিনি ২০২১ সালের ১৮ মার্চ মারা যান। তবে মামলায় তাকে ১৫০ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাসনিম আক্তার নিশাত বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ একজন ছাত্র বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ ১৮২ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো শাখাকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।’