পটুয়াখালীর বাউফলে নামধারী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় ফাতেমা বেগম (৬০) নামে এক নারীর দু-চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের নাম কাজী মাসুদ রানা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, ফাতেমা বেগম নাকের ভেতর একটি ছোট টিউমার নিয়ে পল্লী চিকিৎসক মাসুদের কাছে গেলে তিনি পলিপাস বলে রোগীকে জানান। চিকিৎসার জন্য প্রথমে ১২ হাজার টাকা দাবি করলেও পরে সাত হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন।
৩১ জুলাই রোগীর পলিপাসের চিকিৎসা দেন চিকিৎসক। একদিন পর রোগী অসুস্থ বোধ করলে ২ আগস্ট রোগীকে নিয়ে আবার ওই চিকিৎসকের কাছে যান। সেদিন তার পলিপাসটি অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলেন চিকিৎসক। এ সময় তার নাকের ভেতর ব্যাপক রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং চোখে সমস্যা দেখা দেয়। পরেরদিন আবার চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি চক্ষু ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন। এরপর তারা চক্ষু ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখানোর পরামর্শ দেন।
রোগীর স্বামী আবদুস সালাম বলেন, ঢাকায় চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিক্ষা-নিরিক্ষা শেষে জানান রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ক্ষতস্থান ও উভয় চোখে ক্যান্সার দেখা দিয়েছ। বর্তমানে তার স্ত্রী মৃত্যু শয্যায়।
অভিযুক্ত মাসুদ নিজেকে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) দাবি করলেও তার সাইনবোর্ডে গ্রাম ডাক্তার লেখা রয়েছে। যার রেজিষ্ট্রেশন নং ঢ ০২৪৫৪ উল্লেখ করা হয়েছে।
পল্লী চিকিৎসক ওই নারীকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি ওই নারীর নাকের পলিপাস অপসারণ করেছেন। তিনি পল্লী চিকিৎসক হয়েও হোমিও চিকিৎসা কিভাবে দিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখতে দেখতে শিখেছি। হোমিও চিকিৎসার কোন সনদ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন- নেই।
তিনি হোমিও চিকিৎসা দিয়েছেন বললেও তিনি আসলে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দিয়েছেন এবং রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য ঔষধ সেবনের পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি অপারেশনের চিকিৎসায় ব্যবহার করেছেন 'অ্যাসিড নাইট ম্যথার' নামক একটি মেডিসিন। ব্যবহৃত মেডিসিনের বিষয়ে হোমিও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মো. আনিছুর রহমান বলেন, এই মেডিসিন আমি ব্যবহার করি না। কেন ব্যবহার করা হয় তাও আমি জানি না।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মো. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, সে কেনোভাবেই এ চিকিৎসা দিতে পারেন না। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিলন/নাঈম