সিলেট নগরের সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। চলমান এ অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১১টি অটোরিকশা গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার খুলে নেওয়া হয়।
অভিযানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি), বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিলেট সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএমপি সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, ৩৮টি চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের কার্যক্রম চলছে। আজ ১১টি গ্যারেজের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার খুলে নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল আবার এই অভিযান পরিচালিত হবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোথাও সংযোগ থাকলে সেটিও বিচ্ছিন্ন করা হবে। সিলেটকে নিরাপদ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে এসএমপির এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধনবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় যানজট, দুর্ঘটনা ও জনভোগান্তি বেড়ে গিয়েছে। তাই আমরা আজ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করি। আজ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে ১১টি চার্জিং পয়েন্ট শনাক্ত করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে ৩৮টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজের তালিকা থাকলেও এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আগামীকালও আবার তালিকা করে অটোরিকশা গ্যারেজে অভিযান পরিচালনা করব। ধাপে ধাপে পুরো নগরজুড়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং নিয়ম ভেঙে অবৈধভাবে যান চালালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরবাসীর নিরাপদ যাতায়াত ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, নগরে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে এসএমপির বিশেষ অভিযানও চলছে। বুধবার অভিযানের তৃতীয় দিনে প্রথম ধাপে ৪৫টি যানবাহন আটক করা হয়। এর মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ৩২টি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ২টি, মোটরসাইকেল ১০টি এবং একটি পিকআপ রয়েছে। একই দিনে বিভিন্ন আইন অমান্যের দায়ে ১২টি মামলা দায়ের করা হয়।
সোমবার অভিযানের প্রথম দিনে ৮৭টি যানবাহন আটক ও ১৭টি মামলা দায়ের করা হয় এবং মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে আটক হয় ১০৫টি যানবাহন ও মামলা হয় ৩২টি।
এসজি/