খাগড়াছড়িতে মারমা কিশোরীকে ধর্ষণে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ চলছে।
‘জুম্ম ছাত্র-জনতা'-এর ডাকে শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধ কর্মসূচির কারণে খাগড়াছড়ির সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিসহ সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি জেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া খাগড়াছড়ি জেলা সদরের সঙ্গে দীঘিনালা, পানছড়ি, রামগড়, মহালছড়িসহ ৯ উপজেলার সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি খাগড়াছড়ি এবং সাজেক ভ্রমণে আসা অসংখ্য পর্যটক বিপাকে পড়েছেন। সাজেকের পথে গাড়ি না ছাড়ায় অনেক পর্যটক আটকা পড়েছেন। অপরদিকে সাজেকে আটকে পড়া সহস্রাধিক পর্যটকদের পুলিশ ও সেনা নিরাপত্তায় খাগড়াছড়িতে আনা হচ্ছে।
অবরোধের সমর্থনে ভোরে খাগড়াছড়ির সদরের চেঙ্গী স্কয়ার, জিরো মাইল, স্বনির্ভরসহ বেশ কিছু জায়গায় টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন দিয়েছে পিকেটাররা। পরে পুলিশ গিয়ে সড়ক থেকে তা অপসারণ করে। তবে পৌর শহরের ভিতরে ইজিবাইক, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে।
খাগড়াছড়িতে বেড়াতে কয়েকজন পর্যটক জানান, অবরোধের বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। এখানে এসে আটকা পড়েছেন। সাজেকে যাওয়ার পর্যটকবাহী গাড়ি ছাড়ছে না।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে সড়ক অবরোধ চলছে। আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে প্রাইভেট শেষে বাসায় ফেরার পথে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এনে সদর থানায় মামলা করেন ভিকটিমের পিতা। মামলার পরদিন সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে সিঙ্গিনালা এলাকা থেকে চয়ন শীল নামে এক তরুণকে আটক করে। পলাতক অপর দুই আসামিকেও ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সুমন/