সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালী ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার দপ্তরি আবু হানিফার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে মাদরাসার টিফিনের সময়ে তিনজন শিক্ষার্থী লাইব্রেরিতে বই সংগ্রহের জন্য আবু হানিফাকে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় একজন বই নিয়ে বের হয়ে যায়, অপরজন বই না পেয়ে সেখান থেকে আগেই চলে যায়। আরেকজন শিক্ষার্থী তাক থেকে বই সংগ্রহ করতে টেবিলের উপরে উঠলে তাকে যৌন নিপীড়ন করে দপ্তরী আবু হানিফা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, তাক থেকে বই নেওয়ার সময় ও পরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময়ও তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয়।
ওই শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, আমি আবু হানিফার শাস্তি চাই। আমি বিচার চাই। যাতে আর কারও সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটাতে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার মেয়ে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এটা সত্য। একটি মহল এটাকে ধর্ষণ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সে যতটুকু অপরাধ করেছে, তার ততটুকু বিচার হোক। মেয়ের গায়ে কলঙ্ক লাগছে, ক্ষতি আমাদেরই হবে। আবু হানিফা যা করেছে, তার জন্য তার উপযুক্ত শাস্তি হোক।
এ বিষয়ে পাতাখালী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস.এম. এ হান্নান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত জঘন্য ও দুঃখজনক। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবু হানিফাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওইদিন রাতেই আমরা ওই শিক্ষার্থীর বাসায় গিয়ে নারী শিক্ষক দিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, এ ধরনের ঘটনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এ সময় তারা দ্রুত সময়ে দপ্তরি আবু হানিফার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই।
শাহাজান সিরাজ/সুমন/