ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত ৫ হাজার ৫০০ জন ব্যাংকারকে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুতির চক্রান্ত বন্ধ না করলে বৃহত্তর চট্টগ্রামে তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
চট্টগ্রামের ব্যাংকারদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত ৫ হাজার ৫০০ জনকে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুতির চক্রান্তের প্রতিবাদে আজ সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
‘চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক অধিকার’ ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকারদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিএনপি, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রতিবাদ জানান।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘৫ হাজার ৫০০ জন ব্যাংকারকে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র চলছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নিয়মের মধ্যে চাকরি করে, ইসলামী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগুলো দিয়ে চাকরি স্থায়ী করে প্রমোশন নিয়ে তারা সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। অথচ কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। আমরা এটা মেনে নেব না। এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।’
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনেক কর্মকর্তাকে মাস শেষ হওয়ার পরও বেতন তোলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তারা বলেন, ‘আমরা আপনাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, আপনারা যদি অনতিবিলম্বে আপনাদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে সরে না আসেন, তাহলে বৃহত্তর চট্টগ্রামে তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রামবাসীকে উদাত্ত আহ্বান জানাব, ‘যতদিন পর্যন্ত আমাদের ব্যাংকার ভাইদের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র বন্ধ না হবে, ততদিন পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে লেনদেন বন্ধ করে দিন। চট্টগ্রামের যারা অ্যাকাউন্ট হোল্ডার আছেন, আপনারা টাকা উঠিয়ে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিন। প্রবাসী ভাইদের প্রতি অনুরোধ করব, এই চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে, আপনারা প্রবাস থেকে তাদের ব্যাংকে রেমিট্যান্স পাঠাবেন না। বাংলাদেশে আরও অসংখ্য ব্যাংক আছে, সেখানে আপনারা টাকা পাঠান।’
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া, সদস্য কামরুল ইসলাম প্রমুখ।