সিলেট মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের একটি বিশেষ সভার নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ কিছু পলাতক নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা এই নির্দেশনাটি ব্যাপকভাবে প্রচার করায় তা ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত না হতে আহ্বান জানিয়েছে এসএমপির মিডিয়া সেল।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে এসএমপির মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে মিডিয়া সেলের মুখপাত্র এডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।
এসএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা কতিপয় ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রকাশ করেছেন। অফিসারদের নিয়ে করা অভ্যন্তরীণ সভায় পুলিশ কমিশনার অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মাদককারবারি, ছিনতাইকারী ও চোরাকারবারীদের গ্রেপ্তার করতে নির্দেশ দেন। তা ছাড়া নিষিদ্ধঘোষিত দলের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করতে বলেন এবং প্রকাশ্যে যাতে মিটিং-মিছিল করতে না পারে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি মানবিক পুলিশিং কার্যক্রম শুরু করেছেন। কোনো নিরীহ ও নির্দোষ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন। একটি নিরাপদ ও যানজটমুক্ত নগর গড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রথম দিন থেকে কাজ শুরু করেছেন। পুলিশ কমিশনারের মানবিক ও কল্যাণমুখী কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধনে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে প্রতীয়মান। ভবিষ্যতেও পুলিশ কমিশনারের মানবিক পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের বিৃকত প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হতে নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’
জানা গেছে, গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এসএমপির সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্তে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার কার্যবিবরণীর ১৩ নম্বর ও সর্বশেষ সিদ্ধান্তটিই ফেসবুকে ছড়িয়েছে। ওই নির্দেশনায় লেখা রয়েছে, ‘আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এসএমপির আওতাধীন এলাকায় কোনো আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের লোকজন প্রকাশ্যে যাতে এলাকায় না থাকতে পারে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সব অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশনা দেওয়া হলো। এসি, এডিসি ও ডিসিরা এ বিষয়ে তদারকি করবেন।’
গত শনিবারের সভার এই কার্যবিবরণী পরদিন রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এসএমপির ছয় থানার ওসিসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। ফাঁস হওয়া কার্যবিবরণীর ১৩ নম্বর ও সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি হলুদ রঙের মার্কার দিয়ে হাইলাইটস করা এবং এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিসি দক্ষিণ লেখাটিও একই রঙে চিহ্নিত করা। তা ছাড়া অনুলিপি কার্যার্থে যাদের কাছে পাঠানো সেখানেও উপপুলিশ কমিশনারের (দক্ষিণ) নামে ঠিক চিহ্ন দেওয়া। ধারণা করা হচ্ছে, নথিটি এসএমপির দাপ্তরিক কোনো কার্যালয় থেকে অথবা নতুবা নথিটি সংযুক্ত করে চিঠি পাঠানোর সময় কোনো মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।
ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, এ ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে এখনো বিগত সরকারের দলীয় আনুগত্যের বিভাজনের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে।
এসজি/