সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীনকে ‘ভাই’ ডাকায় তিনি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। এ সময় তাকে ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে এক সাংবাদিককে নির্দেশ দিয়েছেন এই সিভিল সার্জন। এরপর ‘মহদোয়’ না বলে তাকে ‘ভাই’ বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের অনিয়মের সংবাদ তাকে কে দিয়েছে, সেই গোপন তথ্য ও সোর্সের নাম বারবার জানতে চান তিনি।
সোমাবার (২২ জুন) সিরাজগঞ্জে কর্মরত একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহে অনিয়ম নিয়ে তার পেশাগত বিষয়ে সিভিল সার্জনের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে ডা. নুরুল আমীন বলেন, ’আপনি কাকে ভাই বলছেন? আপনি একজন সিভিল সার্জনকে ভাই বলতে পারেন না। আমি একজন জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা। আপনি আমাকে ‘মহোদয়’ বলেন। আমাকে ভাই বলার কোনো অধিকার আপনার নেই।’
শুধু তাই নয়, এই সিভিল সার্জন উল্লাপাড়ার ৫০ শয্যার হাসপাতালে মজুত থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে তাকে তথ্য দেওয়া সূত্রের নাম প্রকাশ করার জন্য ওই সাংবাদিককে চাপ দেন।
এই কথোপকথনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেলে সাংবাদিক ও সুশীল সমাজে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মূলত, সাংবাদিকরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সবসময় তাদের সূত্র বা সোর্সের নাম গোপন রাখেন। কিন্তু সিভিল সার্জনের কাছে যে তথ্য চাওয়া হয়েছিল তা দেওয়ার পরিবর্তে সিভিল সার্জন নুরুল আমীন উল্টো সাংবাদিককে একের পর এক পাল্টা প্রশ্ন করতে থাকেন। এই সাংবাদিক সেখানে কেন গিয়েছিলেন? কে তাকে তথ্য দিয়েছে?
সরকারি চাকরির বিধিমালায় যা আছে:
বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সেবক, তাদের প্রভু নন। যদিও অতীতে কিছু ক্ষেত্রে তাদেরকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করার প্রচলন ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিয়মটি বাতিল করেছে।
সংবিধান এবং সরকারি চাকরি বিধি অনুসারে জানা যায়, সংবিধানের ২১(২) ধারা অনুসারে, প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য হলো সর্বদা জনগণের সেবা করার জন্য সচেষ্ট থাকা। কোনো আইন বা প্রবিধানে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জনসাধারণকে তাদেরকে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করতে বাধ্য করার কোনো বিধান নেই।
এ ছাড়াও, সম্প্রতি সরকার সরকারি কর্মকর্তাদের ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করার নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা বাতিল করেছে।
এ বিষয়ে আরও জানতে সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে উল্লেখিত ঘটনায় উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ সরবরাহের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রচারের পর সিভিল সার্জনের তত্বাবধানে আজ মঙ্গলবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সরজমিনে তদন্ত করে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিরাজুল শিশির/খাদিজা রুমি/