নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল খান রেজার বিরুদ্ধে দলীয় সাইনবোর্ড লাগিয়ে শিল্পপতির মার্কেট দখল, চাঁদাদাবি ও প্রাণনাশের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিল্পপতি সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরীর শিল্প প্রতিষ্ঠানের আমিনুল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর ডিরেক্টর ও সৈয়দপুর উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম এই অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় এই ঘটনার বিচার দাবিতে বিসিক শিল্প নগরীতে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি বলেন, উপজেলার বাঙালীপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে আমিনুল সুপার মার্কেটে আমার আরিফ ট্রেডার্স নামের বিসিআইসি সার ডিলার ব্যবসার বিক্রয় কেন্দ্র ও গোডাউনের একটা অংশ দেয়াল ভেঙে দখল করা হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল খান রেজা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে দখল করে। পরে গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির অফিস সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। যা ওইদিন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন।
তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের আমলে বাঙালীপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ডা. শাহাজাদা সরকারের ইন্ধনে মৃত জহির উদ্দিনের বড় ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন লিটন দলীয় দাপটে মার্কেটের পিছনের কিছু জায়গা জবরদস্তিমূলক দখল করে। এ বিষয়ে মামলা করা হলে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। কিন্তু তারা দলীয় দাপটে অবৈধ দখল ধরে রেখেছে। সেই যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন লিটনের ছোট ভাই রেজাউল খান রেজা। তার মাধ্যমে তাদের অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই দখলবাজি করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গেলে তারা আমার উপর চড়াও হয় এবং লাঠি দিয়ে মারতে উদ্ধত হয়। পরে আমার সঙ্গের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে জানালে তিনি একজন এসআইসহ সঙ্গীয় ফোর্স পাঠান। দখলবাজরা পুলিশের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করে এবং তাদের কোনো কথা শোনেনি। এমনকি পুলিশ চলে যাওয়ার পর রাতের বেলা ফাঁকা জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করছে।
এছাড়া রেজা খান মার্কেটের সব দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়। কিন্তু পুলিশের হস্তক্ষেপে সার গোডাউন ও বিক্রয়ের দোকানের তালা খুলে দেয়। তবে পুরো দখলমুক্ত করার জন্য আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অনেক দিন থেকে তারা এই চাঁদা চাচ্ছে। না দিলে তারা দখল ছাড়বেনা। এমনকি এই ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পুরো মার্কেট দখল করা হবে বলেও হুমকি দেয়।
এর প্রেক্ষিতে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারকে বিষয়টা জানাই। তিনি সৈয়দপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জনকে সমাধানের দায়িত্ব দেন। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে না বসে রেজাউল খান রেজার সঙ্গে যোগসাজশে সমাধানের পরিবর্তে উল্টা আমার মার্কেটের মূল গেটে বিএনপির ইউনিয়ন অফিসের সাইনবোর্ড লাগিয়ে অফিস উদ্বোধন করে দখলবাজি পাকাপোক্ত করেছেন।
এরপর রেজাউল খান রেজা ও তার লোকজন গেটসহ মার্কেট দখল করে গোডাউন থেকে সারের বস্তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলে। নয়তো সার লুট করে নিয়ে যাবে বলে জানায়। ইতোমধ্যে কিছু সার নষ্টও করেছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এভাবে বিএনপির নামে কতিপয় দুষ্কৃতকারী আমার প্রতিষ্ঠানে ভাঙ্চুর, দখল, ও চাঁদাবাজিসহ প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জার ব্যাপার। কেননা আমিও একজন বিএনপির ঘরানার লোক। ছাত্র জীবন থেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক। আমি একজন শিল্পপতি হিসেবে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং বিচার দাবি করছি।
আওয়ামী পরিবারের সদস্য কর্তৃক বিএনপির মত একটা সুসংগঠিত জনপ্রিয় ও সুনামধন্য রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এমন বেআইনী ও জবরদখল ঘটনার কারণে বিএনপির বদনাম হচ্ছে। যা আগামীতে চরম বিপর্যয়ের সৃষ্টি করবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই এহেন অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দসহ দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
পাশাপাশি একটা রাজনৈতিক দলের ব্যানারে এধরনের অবৈধ কারবার বন্ধে প্রশাসন ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে আমরা শিল্পপতিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারব না। সাধারণ জনগণ ক্রমাগত অন্যায় অবিচারের শিকার হবেন। তাই উপরোক্ত কথাগুলো সংবাদ আকারে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সৈয়দপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন বলেন, আমি দখলবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। দখলের বিষয়টি আমার জানাও নাই। রেজা খান ইউনিয়ন সভাপতি হিসেবে অফিস ঘর করে উদ্বোধনের জন্য ডেকেছিল তাই গেছি।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল খান রেজা বলেন, আমি দোকানটা আমার ভাতিজি জামাইয়ের কাছ থেকে কিনে নিয়েছি। সেখানে ইউনিয়ন বিএনপির অফিস করেছি। তাই অফিসের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। এখানে দখলবাজি বা চাঁদাবাজির যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা কোনোভাবেই সঠিক নয়।
মমিনুর আজাদ/মাহফুজ