টাইফয়েড জ্বর থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় এবার ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭৭ জন শিশুকে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিদিন ১ লাখ ৮২ হাজার ৬৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার কথা আছে। খাতা-কলমে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে প্রায় ৮৬ শতাংশ অর্থাৎ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫২ জন শিশুকে। তারপরও প্রতিদিন টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকছে ১৪ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ হাজার ১৩৪ জন শিশু।
সেই হিসাবে গড়ে প্রায় ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪০ জন শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকতে পারে। বিষয়টি মাথায় রেখে টিকাদান ক্যাম্পেইনে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২০ অক্টোবর) খুলনায় জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের (নিমকো) আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত টাইফয়েড-২০২৫ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে এক বিভাগীয় কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বাগেরহাটে প্রতিদিন লক্ষ্যমাত্রার ৭১ শতাংশ, চুয়াডাঙ্গায় ৯২ শতাংশ, যশোরে ৯৫ শতাংশ, ঝিনাইদহে ৮২ শতাংশ, খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯৮ শতাংশ, খুলনা জেলায় ৮৮ শতাংশ, কুষ্টিয়ায় ৭৩ শতাংশ, মাগুরায় ১০০ শতাংশ, মেহেরপুরে ৭৭ শতাংশ, নড়াইলে ১০২ শতাংশ ও সাতক্ষীরায় ৯৮ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রতিদিন বাগেরহাটে লক্ষ্যমাত্রার ২৯ শতাংশ, ঝিনাইদহে ১৮ শতাংশ, খুলনা জেলায় ১২ শতাংশ ও কুষ্টিয়ায় ২৭ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে সাধারণ মানুষের মাঝে টিকা নেওয়ার গুরুত্ব বিষয়ে জনমত গঠন ও জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মুহম্মদ হিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন দেওয়ার মাধ্যমে টাইফয়েড জ্বর থেকে শিশুদের সুরক্ষিত করার বৃহৎ কর্মযজ্ঞ চলছে। টিকা বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা ও টিকাদান প্রক্রিয়ার কোনো সীমাবদ্ধতা দেখা গেলে তা মিডিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষসহ সবার সামনে নিয়ে আসতে গণমাধ্যমকর্মীরা ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. হুসাইন শওকত বলেন, ‘টাইফয়েড টিকার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় প্রচার হওয়া মিথ্যা তথ্যের মোকাবিলায় মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।’
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মুজিবুর রহমান ও ইউনিসেফের খুলনা চিফ মো. কাউসার হোসেন। স্বাগত বক্তৃতা দেন নিমকোর পরিচালক (প্রশিক্ষণ প্রকৌশল) পারভীন সুলতানা রাব্বী এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিসেফের ন্যাশনাল ইউপিআই কনসালট্যান্ট ডা. তাপস কুমার হালদার।