লক্ষ্মীপুর জেলার ১৮০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে তিন মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এসব ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা প্রত্যন্ত এলাকার রোগী ও তাদের স্বজনদের ওষুধ ছাড়াই বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। এদিকে ওষুধ না থাকায় জনরোষে পড়ার ভয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন কয়েকজন হেলথ প্রোভাইডার। ফলে যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, জেলার পাঁচটি উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের সরকারি চিকিৎসাসেবার শেষ আশ্রয়স্থল হলো এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। কয়েক মাস ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে রোগীদের কোনো ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। ওষুধ না পেয়ে অনেকে তা বাজার থেকে কিনে নেন। তবে অর্থের অভাবে কেউ কেউ ওষুধ কিনতে না পেরে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যান। এর ফলে গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেলোয়ারা বেগম জানান, তিনি কয়েকবার ওষুধের জন্য স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে ছিলেন। তবে ওষুধ না পেয়ে প্রত্যেকবার খালি হাতে ফিরে আসেন।
তিনি আরও জানান, এলাকায় মানুষের জ্বর-সর্দি লেগেই থাকে। তাই মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারাও ওষুধ পাচ্ছেন না।
লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিউনিটি ক্লিনিকে তিন মাস পর পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ওষুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু গত জানুয়ারি থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের পুকুরদিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার নুরুল আলম জানান, ওষুধ দিতে না পারায় অনেক রোগী গালাগাল করে। কেউ কেউ আবার শারীরিকভাবে নির্যাতনের চেষ্টাও করেছে। ভয়ে তিনি ক্লিনিক খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
একই উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ প্রোভাইডার ইকবাল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ সরবরাহ নেই। এই কারণে তাকে প্রতিনিয়ত রোগীদের দুরব্যবহারের শিকার হতে হয়। এখন জনরোষে পড়ার ভয়ে তিনি নিয়মিত ক্লিনিক খুলেন না।
লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. আবু হাসান শাহীন বলেন, ‘ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। আশা করছি, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সমাধান হবে।’