ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হারিয়ে যেতে বসা হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ উদ্ধার সাহাবিদের জন্য রাসুল (সা.) কী ধরনের পোশাক পছন্দ করতেন হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম নকআউটে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? জেনে নিন রাউন্ড অব ৩২-এর সমীকরণ বাংলা একাডেমিতে মানিক রফিক আজাদ ও চন্দ্রাবতীকে স্মরণ ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও! কূটনৈতিক সাফল্য পেল পাকিস্তান বেলজিয়াম দলে ফিরছেন জেরেমি ডোকু ব্রিটেনে ১০ বছরে ৬ প্রধানমন্ত্রী, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা? আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচ ঘিরে বেরোবির স্মারক মাঠে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ তছরুপ রাজধানী ও গাজীপুরে আ.লীগের ৪৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার উপসচিব হলেই আগের এসিআর পাঠাতে হবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হাইড্রেশন ব্রেক ম্যাচের গতি নষ্ট করছে: টুখেল বাজেট ঘোষণার পর ঊর্ধ্বমুখী রডের বাজার ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উদ্যোগে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধনের দাবি ‘মেসির মতো আর কেউ আসবে না’ বরিশালে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে, পিছিয়ে কর্মসংস্থানে সেনেগালকে হারিয়ে নক আউট পর্বে নরওয়ে ২৩ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল সহযোগিতার নতুন দিগন্তে ঢাকা-কুয়ালালামপুর আমাদের স্যার শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন ২৩ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রস্তাবিত বাজেটে তরুণদের জন্য সবকিছুই থাকছে ডালাসের গর্জনে টিএসসিতে উল্লাস ইসলামী ব্যাংকে বায়তুল মালের নামে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় ২৩ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি বিশ্বকাপে মেসির ১৮ গোল: কোন দলের বিপক্ষে কত দেখে নিন

১৫ মিনিটে ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা চালক

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৫৯ পিএম
আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:১০ পিএম
১৫ মিনিটে ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা চালক
ছবি: খবররে কাগজ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রামের ভ্যানচালক মলয় মধু। ভ্যান চালিয়ে যা আয় হতো তা দিয়েই ৮ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণ করতেন তিনি। রবিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে একটি মামলার খোঁজ খবর নিতে স্ত্রী আর ছেলে মেয়ে নিয়ে এসেছিলেন গোপালগঞ্জ আদালতে। ভ্যান রেখে মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য গিয়েছিলেন আদালতে। ফিরে এসে দেখন চুরি হয়ে গেছে তার ভ্যানটি। আয়ের একমাত্র সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

ভ্যানচালক মলয় মধু জানান, সংসারে তার মা, স্ত্রী, ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়েই ৮ জনের পরিবারের ভরণপোষণ কোনো রকমে চালিয়ে নিচ্ছলেন। রবিবার সকালে একটি মামলার খোঁজখবর নিতে স্ত্রী, এক মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গোপালগঞ্জ আদালতে আসেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুশাসন চত্ত্বরের সামনে ভ্যানটি রেখে আদালতে যান। কিছুক্ষণ ফিরে এসে দেখেন তার ভ্যানটি চুরি হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এনডিসির রুমে যান তিনি। তবে সেখানে সিসিটিভি না থাকায় শনাক্ত করা যায়নি চোরকে বা কীভাবে তার ভ্যানটি নিয়ে গেছে।

তিনি জানান, ব্যাংক আর এনজিও থেকে লোন নিয়ে তিনি ভ্যানটি কিনেছিলেন। এই ভ্যানের আয় দিয়েই চলছিল তার সংসার। আয়ের একমাত্র ভ্যানটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। ভ্যান হারিয়ে তার আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। দ্রুত তিনি ভ্যানটি উদ্ধার করে চোরদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানান।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্ঠা করা হবে।

বাদল সাহা/মৌসুমী/

হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
হাঁসের বাচ্চায় বদলে যাওয়া গ্রাম
দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের জন্য হাঁসের বাচ্চা প্রস্তুত করছেন ব্যবসায়ীরা। ছবিটি তাড়াশ উপজেলার মান্নান নগর এলাকা থেকে তোলা।

একসময় দারিদ্র্য ও বেকারত্বে জর্জরিত ছিল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের মহেশরৌহালী গ্রাম। জীবিকার সন্ধানে অনেককেই এলাকা ছাড়তে হতো। সেই গ্রামই এখন দেশের অন্যতম হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনকেন্দ্র। হাঁসের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মহেশরৌহালী থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ হাঁসের বাচ্চা দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এই শিল্প ঘিরে বদলে গেছে গ্রামের অর্থনীতি।

প্রায় তিন দশক আগে গ্রামের শাহ আলম কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম ফুটানোর উদ্যোগ নেন। একটি হারিকেন ও ধানের তুষ ব্যবহার করে শুরু করা সেই উদ্যোগ এখন বড় শিল্পে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে গ্রামটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০টি হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। খামারিদের দাবি, এসব হ্যাচারিতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ লাখ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে শাহ আলম পরীক্ষামূলকভাবে কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম ফুটানো শুরু করেন। শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে অবিশ্বাসের চোখে দেখলেও দীর্ঘ গবেষণা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি সফলতা পান। তার সেই উদ্যোগই পরবর্তী সময়ে পুরো গ্রামের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে।

প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে হারিকেন ও তুষের জায়গা দখল করেছে আধুনিক বৈদ্যুতিক ইনকিউবেটর। গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার এখন কোনো না কোনোভাবে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন, পরিচর্যা ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ডিম সংগ্রহ, বাছাই ও বাচ্চা পরিচর্যার কাজে অংশ নিচ্ছেন।

খামারিদের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনকারীরা সাধারণত একদিন বয়সী হাঁসের বাচ্চা প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। তবে খুচরা বাজারে একই বাচ্চার দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ডিম উৎপাদনের জন্য জনপ্রিয় খাকি ক্যাম্পবেল ও ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁসের বাচ্চার চাহিদা বেশি থাকায় এসব জাতের দাম তুলনামূলক বেশি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘একসময় গ্রামের মানুষের নুন আনতে পান্তা ফুরাত। এখন প্রায় প্রতিটি পরিবার এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবাই উৎপাদন ও সরবরাহের কাজে ব্যস্ত থাকে।’

উদ্যোক্তা শাহ আলম বলেন, ‘শুরুটা ছিল খুবই কঠিন। মানুষ বিশ্বাসই করত না যে, কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম ফুটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়া সম্ভব। কিন্তু চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলেই আজ এই অবস্থানে পৌঁছানো গেছে।’ তিনি জানান, এই গ্রামের উৎপাদিত খাকি ক্যাম্পবেল, বেইজিং ও ইন্ডিয়ান রানার জাতের হাঁসের বাচ্চার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

উদ্যোক্তা জামাল উদ্দিন জানান, ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ছোট ইনকিউবেটর দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে দুটি বড় ইনকিউবেটর পরিচালনা করছেন। মাসে প্রায় ৩০ হাজার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে তিনি সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি আয় করছেন।

প্রতিদিন কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা মহেশরৌহালী গ্রামে আসেন। বিশেষ খাঁচায় প্যাকেটজাত করে দেশের প্রায় সব জেলায় সরবরাহ করা হয় এসব হাঁসের বাচ্চা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, মহেশরৌহালীসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৬০০ খামার গড়ে উঠেছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ বাড়ানো গেলে এ শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।

ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও!

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন দেবীগঞ্জের পিআইও!
বাবুল চন্দ্র রায়

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১৫ শতাংশ কমিশন (ঘুষ) গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া পিআইওর কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে অর্থ লেনদেন ও কমিশন নির্ধারণসংক্রান্ত ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, দেবীগঞ্জের পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় কয়েকটি প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১৫ শতাংশ কমিশনের অঙ্ক নির্ধারণ করছেন। একপর্যায়ে তিনি এক ইউপি সদস্যকে বলেন, ‘৩২ হাজার টাকা করে ৮ টন গম হলে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ১৫ শতাংশ দিলে ৩৮ হাজার টাকা হয়।’

জবাবে ওই ইউপি সদস্য বলেন, ‘স্যার, ৩৮ হাজার টাকা! একটু কম করে নেন। কাজেও তেমন লাভ হয়নি।’ তখন পিআইও বলেন, ‘মেম্বারদের কোনো দিন লাভ হয় না। আমি এতদিন পিআইও হিসেবে কাজ করছি, কোনো মেম্বারকে বলতে শুনিনি যে তার লাভ হয়েছে।’

ভিডিওর আরেক অংশে এক ব্যক্তি একটি টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করলে পিআইও ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ২৪ হাজার টাকা কমিশনের কথা বলেন। ওই সদস্য শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানালে বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘আগে আপনাদের পরিষদে আসতে দেয়নি, এর পর থেকে আপনারাও আসতে দেবেন না, শোধবোধ।’

এ ছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ১৮ হাজার টাকা এবং একাধিক প্রকল্প মিলিয়ে অন্য একজনের কাছে ৫৬ হাজার টাকা দাবি করার কথাও ভিডিওতে শোনা যায়। ভিডিওর শেষদিকে কয়েকজনকে টাকা গুনতে এবং ফাইলের সামনে অর্থ রাখতে দেখা যায়।

যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করে পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘ওরা কাজ না করেই বিল নিতে এসেছিল। সে কারণেই এ ধরনের কথা হয়েছে।’ 
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, ‘বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ তছরুপ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২০ এএম
কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পে অর্থ তছরুপ
মিরপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও নাজমুল ইসলাম

কুষ্টিয়ার মিরপুরে গায়েবি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে সদ্য সাবেক ইউএনও নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে। কাগজে-কলমে ১৭টি প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলনও করা হয়েছে। তবে বাস্তবে এসব কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রকল্প কমিটির সভাপতিরা কাজের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। ঠিকাদারি কাজে সুবিধা পেতে ও ইউএনওকে খুশি করতে চেকে সই দিয়েছেন বলে দাবি তাদের।

জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার উন্নয়ন তহবিল থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ধুবাইল ইউনিয়নের গোবিন্দগুনিয়া গ্রামের কফিল উদ্দীনের বাড়ির সামনের একটি কালভার্টের অ্যাপ্রোচ নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে কাজ শেষ করে টাকা উত্তোলন করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সোহেল রানা। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই স্থানে কোনো কালভার্টের অস্তিত্ব নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদক তথ্য অনুসন্ধান করলে নড়েচড়ে বসেন উপজেলা প্রকৌশলী জহীর মেহেদী হাসান। তিনি কাগজে-কলমে কাজটি সঠিকভাবে করা হয়েছে দেখাতে গিয়ে বিষয়টি আরও জটিল করে ফেলেন। বিল ফাইলের কাগজে ওভার রাইটিং করে ধুবাইল ইউনিয়ন কেটে বাড়ুইপাড়া ইউনিয়নের নাম লেখেনভ। তবে ধুবাইল ইউনিয়নের গোবিন্দগুনিয়া গ্রামে যেভাবে কোনো কালভার্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, তেমনি সংশোধিত বাড়ুইপাড়া ইউনিয়নেও গোবিন্দগুনিয়া নামের কোনো গ্রাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

অন্যদিকে, এই প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি যাকে বানানো হয়েছে, সেই সোহেল রানা কাজটির বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম লোক পাঠিয়ে একটি ২ লাখ টাকার চেকসহ কিছু কাগজে তার সই করিয়ে নিয়ে যান। এটি ছাড়া এই কাজে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ইউএনওকে খুশি করার জন্য তিনি তার কথার বাইরে যেতে পারেননি বলেও উল্লেখ করেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক এবং এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সোহেল রানা।

ঠিক এভাবেই বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে লাখ লাখ টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে মিরপুর উপজেলার সদ্য সাবেক ইউএনও নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ১৭টি প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলন হলেও কাজের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিরাই জানেন না যে তিনি কোন প্রকল্পের সভাপতি, কিংবা প্রকল্পের টাকা কোথায় খরচ করা হয়েছে। 

অভিযোগ উঠেছে, নাজমুল ইসলাম মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকার সময় তিনি একাধারে মিরপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলার পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তিনি বনে যান ‘ক্ষমতার পাওয়া হাউস’। সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেই ঠিকাদারি করে এসব প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও নাজমুল ইসলাম। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই তহবিল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবারহ প্রকল্প বাবদ ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই টাকার বিষয়ে জানেন না প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, ‘ইউএনও স্যার ডেকে কিছু কাগজ আর ২ লাখ টাকার চেক সই করিয়ে নেন। আমি স্যারের কথামতো সই করে দিয়ে আসি। আমরা বিভিন্ন সময় ছোটখাটো কাজ নিয়ে স্যারের কাছে যাই, স্যার আমাদের ওপর খুশি থাকলে সেই কাজগুলো সহজেই করে দেন।’ তাই ইউএনওকে খুশি করতে চেকে সই করে দেন, এর বেশি কিছু জানেন না তিনি। 

অপরদিকে, এই প্রকল্পের টাকার কোনো চিকিৎসাসামগ্রী বুঝে পাননি বলে জানান মিরপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পিজুস কুমার। তিনি জানান, কোনো একদিন ইউএনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিছু এক্স-রে ফ্লিম দিয়েছিলেন। যার দাম খুব বেশি হলেও ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা হতে পারে। তবে এটি কোন ফান্ড থেকে দেওয়া হয়েছে, সেটা তাকে বলা হয়নি। এ ছাড়া ২ লাখ টাকা বা এই পরিমাণে কোনো চিকিৎসাসামগ্রী সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত নন।

একইভাবে মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছের চারা রোপণ বাবদ ২ লাখ টাকা, চেয়ারম্যান ভবন মেরামত বাবদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ প্রায় ১৭টি প্রকল্প দেখিয়ে ৩৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতিদের দাবি, উপজেলা প্রকৌশলী জহীর মেহেদী হাসানের সহযোগিতায় সদ্য সাবেক ইউএনও নাজমুল ইসলাম এসব প্রকল্পের টাকা তুলে নেন। 

অন্যদিকে মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছের চারা রোপণ বাবদ ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সায়েম আলী। উপজেলা চেয়ারম্যানের ভবন মেরামত বাবদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন প্রকল্পের সভাপতি জামসেদ আলী।

তাদের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে একই জবাব পাওয়া যায়। সায়েম আলী নিজে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ইউএনও নাজমুল ইসলামের কথামতো টাকা তার কাছে জমা দিয়ে আসেন। আর ইউএনও তার লোক পাঠিয়ে বিল ভাউচারসহ চেকের পাতায় সই করিয়ে নিয়ে যান বলে দাবি করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জামসেদ আলী। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদারদের অভিযোগ, একটি উপজেলার প্রধান সরকারি কর্মকর্তা হয়েও সদ্য সাবেক এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাগজে-কলমে পছন্দের লোকের নাম ব্যবহার করে ‘নিজেই ঠিকাদারির’ কাজ করতেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদ্য সাবেক মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গেলে কিছু ভুল ত্রুটি হতে পারে। আমার ক্ষেত্রে হয়তো তেমনটা হয়ে থাকবে। তবে কাজ না করে টাকা উত্তোলনের মতো কোনো কাজ করিনি।’
 
উপজেলা প্রকৌশলী জহীর মেহেদী হাসানের দাবি, ‘কাজ করা হয়েছে বিধায় বিল উত্তোলনের জন্য টাকা ছাড় করা হয়।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) আহাম্মেদ মাহাবুব উল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী একটি প্রকল্প পাস হলে, সেই প্রকল্পের কাজ সম্পাদনে জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি হবে। সেই কমিটির বাইরে কারও কাজ করা বা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ নেই। যদি এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন
ছবি তোলার আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনী এসে পৌঁছায়নি। ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

সোমবার (২২ জুন) থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে এক সপ্তাহের জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনা মোতায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। রাতের মধ্যে তারা গোপালগঞ্জে পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কত প্লাটুন বা কতজন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

এদিকে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জে এখন পর্যন্ত কোনো প্রভাব পড়েনি। পরিস্থিতি আশঙ্কামুক্ত থাকায় জেলার জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ছাড়াই বাইরে বের হচ্ছেন এবং যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাত সোমবার সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের অনুরোধ জানান। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানিয়েছেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আগামী ২৩ জুনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এ জেলার মানুষ শান্তিপ্রিয়। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তারপরও জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করছি, রাতের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপালগঞ্জে পৌঁছে যাবেন।’

বাদল/রিফাত/

মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮
ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া মাহী (১৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ও আইসিটি শিক্ষকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২২ জুন) সকালে এ ঘটনায় নিহতের মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ (১৬), তার মা রুমা (৪৫), বোন মিম (২২), মাসুদ (৩৫), সুজন (৩০), রাসেল (৩০), সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম (৫৯) এবং আইসিটি শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াকুব মোল্লা (২৯)।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় নিচতলায় অবস্থিত অষ্টম শ্রেণির ‘ক’ শাখার একটি শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফের সঙ্গে মারিয়ার আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে ১৫ জুন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে এনে মুচলেকা নেয় এবং দুজনকেই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দিন দুপুরের পর থেকেই মারিয়া নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের ছয় দিন পর গত রবিবার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থান-সংলগ্ন ঝোপে স্থানীয়রা একটি স্কুলব্যাগ দেখতে পান। পরে সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে মারিয়ার খণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সোমবার বিকেলে মারিয়ার মরদেহ স্থানীয় লক্ষীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে, দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামে আলিফের বাড়িতে উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর চালায়।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মারিয়া হত্যা মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আসাদ জামান/রিফাত/