চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ–ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মারামারির ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্টেডিয়ামের পূর্ব গ্যালারিতে এ ঘটনা ঘটে। মারামারির সময় দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে গ্যালারির বিভিন্ন দিকে ছুটোছুটি করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশ–ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ ঘিরে চট্টগ্রামে ছিল তীব্র ক্রিকেট উন্মাদনা। বুধবারের ম্যাচে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল গ্যালারি। এসময় কয়েকজন দর্শক সাকিব আল হাসানের সমর্থনে “সাকিব, সাকিব” বলে স্লোগান দিতে থাকেন এবং সাকিবের নাম লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় “জুলাই যোদ্ধা” লেখা পোশাক পরা একদল দর্শক। তারা প্রথমে সাকিব ভক্তদের কাছ থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নেয়। পরে আরেকজন সাকিবের নাম লেখা জার্সি পরে স্লোগান দিলে ওই দলটি ১৫–২০ জন মিলে তাকে ও আরও দুজনকে বেধড়ক মারধর করে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ রফিক বলেন,‘সাকিবের নামে স্লোগান দেওয়ায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ লেখা গেঞ্জি পরা ২০ জনের একটি দল সাকিব ভক্তদের ওপর হামলা চালায়। এতে দুইজন গুরুতর আহত হন। তাদের মেরে গ্যালারির সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়। মনে হচ্ছিল তারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।’
জানা গেছে, সন্ধ্যা ৬টায় ম্যাচ শুরু হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘটনাটি ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে এবং সংঘর্ষে জড়িত ছয়জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে মারামারির ঘটনায় ছয়জনকে থানায় আনা হয়েছে। তবে এখনো তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আপাতত তারা থানায় আটক রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রিফাত/