রাজশাহীর প্রখ্যাত চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাজেম আলী হত্যাকাণ্ডে ছয়জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল অভিযুক্ত মোস্তফাসহ আরও দুইজন এখনো পলাতক রয়েছেন। এই ঘটনায় তদন্তে গড়িমসি ও মূল খুনিদের গ্রেপ্তারে দেরি হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সহকর্মী চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স রুমে বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসক ফোরামের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও রাজশাহীর সভাপতি প্রফেসর ডা. ওয়াসিম হোসেন, এনডিএফের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এনডিএফ রাজশাহীর সভাপতি ডা. রেজাউল ইসলাম, সহসভাপতি ডা. এম মুর্শেদ জামান মিঞা, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এএসএম আব্দুল্লাহ এবং শহিদ ডা. কাজেম স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ডা. মশিউর রহমানসহ অন্য চিকিৎসকরা।
লিখিত বক্তব্যে ডা. মশিউর রহমান বলেন, ‘২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর ডা. কাজেম আলীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। পরদিন তার স্ত্রী রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।’
তিনি আরও জানান, পুলিশ মোবাইলের সিডিআর বিশ্লেষণ করে ছয়জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে গাড়িচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল আসামি মোস্তফাসহ দুজন এখনো পলাতক।
ডা. মশিউর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ভয় পাচ্ছি, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নাও হতে পারে। দুই বছরেও মূল খুনিদের ধরা হয়নি।’
ডা. কাজেমের ব্যাচমেট ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মূল অভিযুক্ত মহিদুল ইসলাম মোস্তফা পেশায় বাবুর্চি। তিনি নগরীর শিল্পীপাড়ার বাসিন্দা। ১৬৪ ধারায় শাহাজাদা নামে এক আসামি স্বীকার করেছে, ‘আমি ছিলাম, মোস্তফাও ছিল’। এটি নিছক ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।”
এনডিএফ রাজশাহীর সহসভাপতি ডা. মুর্শেদ জামান মিঞা বলেন, ‘ঘটনাটি নির্বাচনের আগে ঘটে। তখন আমাদের অনেকের নাম কিলিং লিস্টে ছিল। পুলিশ জানিয়েছিল, নিরাপত্তা নিতে। পরে জানতে পারি, তৎকালীন আরএমপি কর্মকর্তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলেছেন।’
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও এনডিএফের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ডা. কাজেম আলী হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওইদিনই আরও এক পল্লী চিকিৎসক খুন হন। দেশে এ ধরনের গুম-খুনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
প্রফেসর ডা. ওয়াসিম হোসেন বলেন, ‘রাজনীতি বাদ দিন- ডা. কাজেম একজন নাগরিক ও চিকিৎসক। তাকে খুন করা হয়েছে, এটি সত্য। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে চার্জশিট দিতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।’
পরে খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে চিকিৎসকরা দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. ফয়সল আলম, প্রফেসর ডা. রেজাউল ইসলাম, প্রফেসর ডা. হাসানুজ্জামান হাসু, ডা. মুর্শেদ জামান মিঞা, ডা. মশিউর রহমানসহ চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
চিকিৎসক নেতারা বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নেমেছি রোগীদের কষ্ট দিয়ে। কিন্তু ডা. কাজেম আলীর হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা চুপ থাকব না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, ‘মামলাটি রাজশাহী পিবিআই তদন্ত করছে। তারাই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবে।’
তবে মামলার অগ্রগতি জানতে পিবিআই রাজশাহীর ইউনিট ইনচার্জ ও পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনায়েত/এসজি/