ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

সাধু লিওর ধর্মপল্লীতে খ্রিস্টভক্তদের দুদিনের তীর্থোৎসব

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:০৫ এএম
সাধু লিওর ধর্মপল্লীতে খ্রিস্টভক্তদের দুদিনের তীর্থোৎসব
ছবি: খবরের কাগজ

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর বারমারী সাধু লিওর খ্রিস্টান ধর্মপল্লীতে দুই দিনব্যাপী ফাতেমা রানির তীর্থোৎসব শেষ হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে মহা খ্রিস্টযাগের (প্রার্থনা) মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনের ক্যাথলিকদের এই উৎসব।

এবারের মূলভাব ছিল ‘আশার তীর্থযাত্রা; ফাতেমা রানি মা মারিয়া, বারমারী’। উৎসবে দেশ-বিদেশের প্রায় ৩৫ হাজার রোমান ক্যাথলিক  খ্রিস্টভক্তরা অংশ নেয়।

ময়মনসিংহ ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত বিশপ পনেন পল কুবি সিএসসি জানান, ১৯৪২ সালে ফাদার মার্কস বারমারী মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশ বারমারী মিশনকে ধর্মপল্লী হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে ফাতেমা রানির তীর্থস্থান স্থাপন করা হয়। প্রতিবছর অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের বৃহস্পতি ও শুক্রবার এই ক্যাথলিক তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এবারও আশার তীর্থযাত্রাকে মূল সুরে উদযাপন করা হয়েছে। তিনি জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান। এবারের উৎসবে বিশ্ব মানবতার কল্যাণ, বিশেষ করে বাংলাদেশের শান্তি ও সব সমস্যার সমাধানের জন্য তীর্থযাত্রায় প্রার্থনা করা হয়।

আয়োজক কমিটি জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর গারো পাহাড়ের বারমারী সাধু লিওর খ্রিস্টান ধর্মপল্লীতে পূর্ণ মিলন, পাপ স্বীকার ও বিকেলে পবিত্র খ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তীর্থোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। পরে রাতে আলোক শোভাযাত্রা, আরাধনা, ব্যক্তিগত প্রার্থনা, নিরাময় অনুষ্ঠান ও নিশি জাগরণ অনুষ্ঠিত হয়। আর শুক্রবার সকালে জীবন্ত কুশের পথ ও মহা খ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে দুই দিনের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষ হয়। দেশ-বিদেশ থেকে আসা খ্রিস্টভক্তরা নিজেদের পাপ মোচনের জন্য মোম জ্বালিয়ে আলোর মিছিলে অংশ নেন। প্রায় দেড় কিলোমিটার পাহাড়ি ক্রুশের পথ অতিক্রম শেষে মা মারিয়ার প্রতিকৃতির সামনে সমবেত হয়ে ভক্তরা শ্রদ্ধা জানান, অকৃপণ সাহায্য দেন এবং ভালো ফলাফল, লেখাপড়া সহজ হওয়া ও নিজের মনের বাসনা পূরণের জন্য প্রার্থনা করেন।

তীর্থযাত্রী সূর্য সেন বলেন, ‘আমরা আমাদের ধর্মীয় নিয়মনীতি সঠিকভাবে পালন করতে তীর্থস্থানে আসি। ভালো কাজের জন্য প্রার্থনা করি। মোমবাতি হাতে নিয়ে পুরো তীর্থস্থান ঘুরে মা মারিয়ার কাছে আমাদের আশা জানাই। আমাদের মানত পূরণ করেন মা মারিয়া।’

দামদা মানকিম বলেন, ‘আমি যেন ভালো ফলাফল করে দেশের ও সমাজের মানুষের সেবা করতে পারি, তাই মা মারিয়ার কাছে প্রার্থনা করতে এসেছি।’

মারিয়া নকরেক বলেন, ‘আমি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। মা মারিয়ার কাছে ভালো ফলাফল কামনা করতে এখানে এসেছি। মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেছি।’

ভক্তদের বিশ্বাস, মা মারিয়া তাদের সব চাওয়া পূরণ ও সমস্যার সমাধান করেন। তাই শিশু, যুবক ও বৃদ্ধরা প্রতিবছর এই তীর্থে ছুটে আসেন। দীর্ঘ ২৫ বছর পর এবার জুবিলি উৎসব উদযাপন করা হয় এবং এ উপলক্ষে একটি মেলা বসেছিল।

জেলা পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তীর্থোৎসব সম্পন্ন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিল। পাশাপাশি বিজিবি সব সময় টহলে ছিল। কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই এবারের তীর্থোৎসব শেষ হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘উৎসবটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ। হাজার হাজার খ্রিস্টভক্ত এখানে এসেছেন। তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষও উৎসব দেখার জন্য এসেছেন। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল এবং নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা তৎপর ছিল।’

শাকিল/এসজি/

 

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন
ছবি তোলার আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনী এসে পৌঁছায়নি। ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।

সোমবার (২২ জুন) থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে এক সপ্তাহের জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনা মোতায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপালগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। রাতের মধ্যে তারা গোপালগঞ্জে পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কত প্লাটুন বা কতজন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

এদিকে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জে এখন পর্যন্ত কোনো প্রভাব পড়েনি। পরিস্থিতি আশঙ্কামুক্ত থাকায় জেলার জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ছাড়াই বাইরে বের হচ্ছেন এবং যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাত সোমবার সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের অনুরোধ জানান। সেখানে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এর ফলে বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানিয়েছেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আগামী ২৩ জুনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এ জেলার মানুষ শান্তিপ্রিয়। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। তারপরও জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করছি, রাতের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপালগঞ্জে পৌঁছে যাবেন।’

বাদল/রিফাত/

মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮
ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া মাহী (১৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ও আইসিটি শিক্ষকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২২ জুন) সকালে এ ঘটনায় নিহতের মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ (১৬), তার মা রুমা (৪৫), বোন মিম (২২), মাসুদ (৩৫), সুজন (৩০), রাসেল (৩০), সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম (৫৯) এবং আইসিটি শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াকুব মোল্লা (২৯)।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময় নিচতলায় অবস্থিত অষ্টম শ্রেণির ‘ক’ শাখার একটি শ্রেণিকক্ষে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফের সঙ্গে মারিয়ার আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে ১৫ জুন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে এনে মুচলেকা নেয় এবং দুজনকেই ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দিন দুপুরের পর থেকেই মারিয়া নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের ছয় দিন পর গত রবিবার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিংগাইর উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থান-সংলগ্ন ঝোপে স্থানীয়রা একটি স্কুলব্যাগ দেখতে পান। পরে সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে মারিয়ার খণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সোমবার বিকেলে মারিয়ার মরদেহ স্থানীয় লক্ষীপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে, দুপুর ১টার দিকে উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামে আলিফের বাড়িতে উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর চালায়।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মারিয়া হত্যা মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আসাদ জামান/রিফাত/

সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ। ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও খাগরিয়ার ত্রাস হিসেবে পরিচিত হাসান মাহমুদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গনিপাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হাসান মাহমুদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের ভাগিনা। তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানা এবং চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও ও কোতোয়ালি থানায় সর্বমোট ৬টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাসান মাহমুদ গনিপাড়ায় অবস্থিত তার বাড়ির সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে, সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির আমিন ও রোমান হোসেনসহ পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে তাকে আদালতের কাছে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। এ ছাড়াও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সবসময়ই তৎপর রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আকতার হোসেন ও সাবেক চেয়ারম্যান মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তখন আকতার হোসেনের প্রধান সহযোগী হিসেবে হাসান মাহমুদের নাম উঠে আসে।

আরিফুল ইসলাম/নাঈম

নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার সময় আসল র‍্যাব সদস্যদের হাতে বেলাল হোসেন (৪৫) নামে এক নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে চৌমুহনী চৌরাস্তার জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বেলাল হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার পানপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, বেলাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে প্রতারক বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থানায় রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

মজনু/রিফাত/

সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী
ছবি: খবরের কাগজ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জে পৌঁছেছে সেনাবাহিনী। এদিকে, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় পৌঁছায় সেনাবাহিনীর এ দল। আজ থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে সেনাবাহিনী।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করতে এক সপ্তাহের জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে এসে পৌঁছায়। তবে এই সেনাবাহিনী দলে কত প্লাটুন বা কতজন সেনাসদস্য রয়েছেন তা নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

এদিকে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করেছে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জে এখনো কোনো খারাপ প্রভাব পরেনি। আশঙ্কামুক্ত থাকায় জেলার জীবনযাত্রা ছিল পুরোপুরি স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ছাড়াই বাইরে বের হয়েছেন। যান চলাচলও ছিল স্বাভাবিক।

সোমবার সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাতের লেখা এক চিঠিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবীবুল্লাহ জানিয়েছে, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আগামীকাল ২৩ জুনও জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এ জেলার মানুষ শান্তিপ্রিয়, তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হবার কোনো আশঙ্কা নেই। তবুও জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে জেলায় পৌঁছেছে।

বাদল সাহা/নাঈম