চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে পণ্যটির কেজিতে আকারভেদে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। একই হারে দাম বেড়েছে খুচরায়ও। এদিকে পাইকারিতে চায়না আদার দাম কমলেও খুচরায় প্রভাব পড়েনি।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ আকারভেদে বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরায় প্রভাব পড়েছে। খুচরায় কেজিতে আকারভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
তবে দুই সপ্তাহ আগে পাইকারিতে ১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া চায়না আদার দাম আরও কমেছে। গতকাল পণ্যটি কেজিপ্রতি ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়। তবে খুচরা বাজারে দাম কমার কোনো প্রভাব পড়েনি। দুই সপ্তাহ আগে খুচরায় কেজিপ্রতি ১৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া চায়না আদা গতকালও একই দামে বিক্রি হয়েছে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমানে খাতুনগঞ্জে দেশি ছাড়া অন্য কোনো পেঁয়াজ নেই। এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজের মৌসুমও শেষ হয়ে এসেছে। তাই পাবনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়ায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি; যার প্রভাব পাইকারি ও খুচরা বাজারে পড়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নভেম্বরের শেষে বা ডিসেম্বরের শুরুতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আসবে বাজারে। আশা করছি, তখন দাম কমে আসবে।’
নগরের হালিশহর কাঁচাবাজারে পেঁয়াজ, আদা ও রসুন বিক্রেতা মো. জয়নাল জানান, বাজারে এখন ভারতীয় পেঁয়াজ খুব একটা নেই। পুরো বাজার দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পাইকারিতে পণ্যটির দাম বেড়েছে। তাই খুচরা পর্যায়েও পেঁয়াজের কেজিতে আকারভেদে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি চায়না আদার চাহিদা ভালো। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় দামটা এখনো বাড়তি।
এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকায়। তবে দেশি মুরগি আগের ৫৮০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তা ছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকায় ও খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হয়েছে ১৩৫ টাকায়।
নগরের হালিশহর কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. এনাম বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগির সরবরাহ কম। বাড়তি দাম দিয়ে কিনে আনতে হয়েছে। তাই দাম বেড়েছে।’
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, ‘ভারতে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ মাত্র ৫ টাকা, এক কেজি ব্রয়লার ৮০ থেকে ৯০ টাকা। অথচ বাংলাদেশে ডিম ১০ টাকা ও ব্রয়লার ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা খরচে উৎপাদন হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে কাঁচামাল সস্তা হলেও দেশীয় সিন্ডিকেট অতি মুনাফার প্রতিযোগিতায় বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে।
করপোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ফিড, বাচ্চা, মেডিসিন ও ভ্যাকসিনের দাম সরকার নির্ধারণ, প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনকে নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করাসহ সাত দফা দাবিতে আগামীকাল (শনিবার) থেকে সারাদেশে ডিম-মুরগি উৎপাদন বন্ধ থাকবে। ফিড, বাচ্চা, ওষুধ ও ভ্যাকসিন আমদানি উন্মুক্ত করতে হবে। এতে সিন্ডিকেট দুর্বল হবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং খামারিরা কম খরচে উৎপাদন করতে পারবেন। ক্রেতারাও স্বস্তি পাবেন।’
এদিকে গতকাল রিয়াজউদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারটিতে প্রতি কেজি ফুলকপি ১০০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০, মূলা ও কাঁচা পেঁপে ৪০, বেগুন ৬৫, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০, মিষ্টিকুমড়া ৪০, গাজর ১২০, শসা ৭০, করলা ও কাঁকরোল ১০০, ঢ্যাঁড়স, বরবটি ও পটোল ৭০, কচুর লতি ৬০, কাঁচামরিচ ২৬০ ও টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২০ টাকায় বিক্রি হয়।
মাছের বাজারে প্রতি কেজি পোয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কোরাল ৭০০, বাগদা চিংড়ি ৮৫০ থেকে ৯০০, রুই ও কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০, লইট্যা ১৮০, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, রূপচাঁদা ৮৫০, তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প ২৫০, টেংরা ৮০০, নাইলোটিকা ২২০ ও পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়।
অপরদিকে মুদি দোকানে প্রতি কেজি খেসারি ডাল ১০০ টাকা, মসুর ডাল (মোটা) ১০০, বুটের ডাল ১১০, মুগডাল (ছোট) ১৩০, মাষকলাই ডাল ১৮০, ছোলা ১০০, প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১৪০, প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ৯০, প্রতি কেজি খোলা সাদা চিনি ১১০, প্যাকেট চিনি ১২০ ও লাল চিনি ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়। তা ছাড়া প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ ও প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকায় বিক্রি হয়।