রাজশাহীতে বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলেকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় আটক যুবক লিমন মিয়া সিলেটেও একদফা আটক হয়েছিলেন। তখন বিচারকের পরিবার তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে চায়নি। একটি সাধারণ জিডি করায় পুলিশ তাকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়। এ সময় পুলিশকে লিমন বিচারকের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি যেহেতু প্রেম করেছি, তারে ছাড়তাম না!’
বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যোগাযোগ করলে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. মুবাশ্বির খবরের কাগজকে বলেন, সেদিন সাধারণ ডায়েরি করার পর লিমনের বিরুদ্ধে বিচারকের পরিবার কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশ ৮৯ ধারায় ব্যবস্থা নিয়েছিল।
জিডিতে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা হিসেবে সিলেটের জালালাবাদ থানার মডেল টাউনের কথা উল্লেখ করেন। অভিযুক্ত লিমন মিয়ার (৩৫) ঠিকানা উল্লেখ করা হয়, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ভবানিগঞ্জ এলাকা।
আরও পড়ুন: বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য হওয়ার সূত্র ধরে লিমন মিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। লিমন মিয়া আর্থিকভাবে কিছুটা দুর্বল হওয়ায় মোবাইলফোনে প্রায়ই তাসমিন নাহারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চাইতেন। একপর্যায়ে প্রতিনিয়ত তার কাছে সহযোগিতা চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর লিমন মিয়া ফোনে কল দিয়ে হুমকি প্রদান করেন। সর্বশেষ ৩ নভেম্বর সকালের দিকে লিমন মিয়া তাসমিন নাহারের মেয়ের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কল করে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনদের হত্যার হুমকি দেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগায় তিনি জিডি করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিচারকের স্ত্রীর সঙ্গে অন্তত পাঁচ বছর ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল লিমনের। এক বছর ধরে টাকা নেওয়া শুরু করে। ফোন করে নানা রকম কথাবার্তা ও ভয় দেখিয়ে অনেক ব্ল্যাকমেল করে টাকা দাবি করে লিমন। দাবির সঙ্গে টাকাও পেয়েছে। সর্বশেষ ৬ নভেম্বর বিচারকের স্ত্রী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তার মেয়েকে দেখতে আসেন। তিনি সিলেট আসার খবর পেয়ে লিমনও সিলেটে আসে। নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টের নিকট প্রথম দফা বিচারকের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে। সেখানে লিমন আপত্তিকর আচরণ করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে একই রকম আচরণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লিমনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
লিমনকে আটক করা জালালাবাদ থানার দুজন পুলিশ সদস্য বলেন, লিমন বিচারকের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের অনেক কথাবার্তা বলেছে। প্রেমে অন্ধ মনে হচ্ছিল। ক্রোধের সঙ্গে নানা অসংলগ্ন কথাবার্তাও বলে। তার সঙ্গে সম্পর্কের সত্যতা আছে বলে বিচারকের স্ত্রী লিমনের যে কোনো দাবি (টাকা পয়সা) অনায়াসে মেটাতেন। তবে জিডিতে এসব না বলে বলা হয়েছে হত্যার হুমকির কথা।
তাতে বলা হয়, লিমনের হুমকি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার।
মাহফুজ/