ভূমিকম্পের পূর্বপ্রস্তুতি ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়োজনে নগর ভবনের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘যে কোনো সময় দুর্যোগ ঘটতে পারে। তাই ভূমিকম্প পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগে থেকেই সব উদ্ধারযন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখতে হবে। কোন সংস্থার কাছে কি ধরনের যন্ত্রপাতি আছে, তার একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। দুর্যোগের সময় যাতে সবকিছু সহজেই পাওয়া যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখতে হবে। পুরোনো স্বেচ্ছাসেবীদের আবার প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং নতুন স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে হবে।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘যেহেতু ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব নয়, তাই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নগরবাসীকে সচেতন করতে হবে। উদ্ধারকাজে সম্পৃক্ত সব সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রস্তুত রাখতে হবে।’
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবী বলেন, ‘নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত সব ভবন ভেঙে ফেলা হবে। আরও কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আছে কিনা তা যাচাই করতে নতুন করে এসেসমেন্ট করা হবে। উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সেগুলো ভাঙা হবে। জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি উদ্ধার কাজের জন্য আরও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরা হবে। নিজেদের নিরাপদ রাখতে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করার জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানান।’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, ‘ভূমিকম্প হলে যাতে মানুষ নিরাপদ স্থানে যেতে পারে, সেজন্য নিরাপদ বৃহৎ খালি জায়গা প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, গত এক যুগে সিলেট সিটি করপোরেশন কোনো দুর্বল বিল্ডিং অনুমোদন দেয়নি। বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করলে ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।’
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা আরও বাড়াতে আমরা সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছি। আমাদের অনেক যন্ত্রপাতি রয়েছে এবং সেগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে সময়মতো ব্যবহার করা যায়। দুর্যোগকবলিতদের উদ্ধারের জন্য আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করব।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘দুর্যোগের সময় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও স্বেচ্ছাসেবী পাওয়া যায় না। তাই এ বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। পুরোনো স্বেচ্ছাসেবীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি নতুন স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে হবে। যন্ত্রপাতির একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে, যাতে তা যথাসময়ে কাজে লাগানো যায়।’
সভায় সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, জালালাবাদ গ্যাস, আনসার ভিডিপি, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, ইসলামিক রিলিফ, বিএনসিসি, স্কাউট, গার্লস গাইডসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
রিফাত/