নড়াইলের একমাত্র কৃষি ও কারিগরি কলেজটি ভবনের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে রয়েছে। পুরোনো টিনশেড ঘরে শিক্ষার কার্যক্রম চলে। এতে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়। বৃষ্টি নামলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। বই-খাতা নষ্ট হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে সব সময় দুর্ঘটনার ভয় কাজ করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের উচড়বাহা এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে ২০০৫ সালে নড়াইল কৃষি ও কারিগরি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুর দিকে শিক্ষকরা বিনা বেতনে পাঠদান করাতেন। ২০১৯ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এখানে ১১২ জন শিক্ষার্থী ও ১৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
কলেজে একটি মাত্র ভবন আছে, যার ওপর টিনের ছাউনি দেওয়া। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে টিনে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। কাঠের বাতাগুলোও পানিতে পচে গেছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করা যায় না। আকাশে মেঘ হলেই শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকেন। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে আশপাশে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে হয়।
শিক্ষার্থী সুমন শিকদার বলেন, ‘কলেজে এসে ভয় নিয়ে বসতে হয়। না জানি কখন টিন ভেঙে মাথায় পড়ে। এভাবে পড়াশোনা করা যায় না। কবে নতুন ভবন হবে, তাও জানি না।’
মেহেরুন হেলেন বলেন, ‘যেখানে ক্লাস করি, সেখানে ঠিকঠাক ভবন নেই। শ্রেণিকক্ষে জানালা-দরজাও নেই।’
অপর শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ সিকদার বলেন, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই ক্লাস করতে হয়। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় বহিরাগতরা চলে আসেন। কখনো গরু-ছাগলও ঢুকে পড়ে।
অন্য শিক্ষার্থী অর্পিতা পাটোয়ারী বলেন, ‘নড়াইলের একমাত্র কৃষি ও কারিগরি কলেজে আমরা পড়ছি। অথচ একটি ভবনও নেই, এটা আমাদের জন্য লজ্জার। দ্রুত ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, টিনশেড ঘরের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষেই পানি পড়ে। বর্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বড় কষ্ট হয়। শিক্ষার্থীরা পাস করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কৃষি খাতে অবদান রাখছে। কিন্তু ভবনসংকটের কারণে ক্লাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। তিনি অনুরোধ করেন, কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নড়াইল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুণাভ রায় বলেন, কলেজের ভবনসংকট রয়েছে। বিষয়টি অধিদপ্তরে নতুন করে তালিকাভুক্ত করা হবে। বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।