মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মর্টার শেলের হামলায় শহিদ হন আসমা, নাজমা ও ফাতেমা। এই তিন বোনকে স্মরণ করে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় তিন দিনব্যাপী ‘ত্রিবেণী’ চিত্র প্রদর্শনী ও জনস্বাস্থ্য মেলা শেষ হয়েছে।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের বালাসুর বিক্রমপুর জাদুঘর প্রাঙ্গণে নৈর্ঋত স্টুডিওর আয়োজনে এবং মুক্ত আসর ও স্বপ্ন ’৭১ প্রকাশনার সহযোগিতায় এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ এবং যারা যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতার শিকার হয়েছিলেন, তাদের প্রতীক হিসেবে আসমা, নাজমা ও ফাতেমা নামের তিন বোনের একসঙ্গে মৃত্যুর মর্মান্তিক ও বিস্মৃত গল্প এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে।
ত্রিবেণী চিত্র প্রদর্শনী ও জনস্বাস্থ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুজাহেরুল হক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ত্রিবেণী চিত্র প্রদর্শনী ও জনস্বাস্থ্য মেলার সদস্যসচিব আবদুল লতিফ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিক্রমপুর জাদুঘরের কিউরেটর নাসির উদ্দীন, শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন, মুক্ত আসরের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবু সাঈদ, লেখক আশফাকুজ্জামান, নৈর্ঋত স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা আয়শা জাহান। সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহিদের ছোট ভাই আবদুর রহমানসহ (বাবলু) আরও অনেকে।
মুক্ত আসরের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, ‘এ প্রদর্শনী মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্যাগ স্বীকার করা মানুষের অজানা গল্পের প্রতিফলন। এটি শুধু শিল্পের জন্য নয়, বরং বিস্মৃত স্বপ্ন, সাহস ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক অনন্য প্রয়াস।’
নৈর্ঋত স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা আয়শা জাহান বলেন, ‘চট্টগ্রামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মর্টার শেলের হামলায় তিন বোনসহ ১৬ জন শহিদ হন। তাদের স্মরণ করতেই এই ত্রিবেণী চিত্র প্রদর্শনী ও জনস্বাস্থ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ইতিহাসের এই করুণ অধ্যায় নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। প্রদর্শনীতে শহিদদের ছবির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালীন নানা ঘটনার চিত্র, তথ্যচিত্র ও সচেতনতামূলক স্বাস্থ্যবিষয়ক উপকরণ প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ তিন বোনের ব্যবহৃত পোশাকও উপস্থাপন করা হয়েছে।’
শহিদ তিন বোনের স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে চিত্রকলা, ইনস্টলেশন, ভিজ্যুয়াল মাধ্যম এবং তাদের ব্যবহৃত পোশাকের প্রদর্শনীর মাধ্যমে। প্রদর্শনীতে মোট ২৫টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। তিন বোনের সাদাকালো একটিমাত্র ছবি অবলম্বনে শিল্পীরা তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রতিকৃতি এঁকেছেন। জলরং, তেলরং ও দৃশ্যমাধ্যমে তারা শহিদ আসমা, নাজমা ও ফাতেমার শৈশব থেকে শহীদ হওয়ার দিন পর্যন্ত সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ফুটিয়ে তুলেছেন।
প্রদর্শনীতে তরুণ শিল্পী প্রশুন হালদার, মৃৎমন্দির গুঞ্জন কুমার রায়, জয়তী বিশ্বাস ও সারাহ জাবীনের মতো শিল্পীদের কাজ স্থান পেয়েছে।
রিফাত/