ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের  দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী আরমান-মুক্তির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বাপ্পারাজ ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা

অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু যশোরবাসী

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১১ পিএম
অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু যশোরবাসী
তীব্র শীতে নাকাল জনজীবন। ছবি: সংগৃহীত

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে নাকাল যশোরের জনজীবন। গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এরফলে গ্রামে-শহরে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবারও যশোরে একই তাপমাত্রা বিরাজ করে। চলতি মৌসুমে এর আগে আরও দুদিন যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। মাঝে গত সোমবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও অনুভূত ছিল ৫/৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। টানা শৈত্যপ্রবাহে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। তারা কর্মহারা হয়ে পড়েছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ায় হাসপাতালেও বেড়েছে রোগীর চাপ। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা।
 
যশোর বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, যশোরাঞ্চলে পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহেই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। এখন তাপমাত্রা আরও কমে গিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। গতকাল (১ জানুয়ারি) যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবারও একই তাপমাত্রা ছিল। এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর যশোরের তাপমাত্রা নেমে যায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি ওই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। এর আগে ২৬ ডিসেম্বেরও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল যশোরে।

এরপর তিন দিন তাপমাত্রার ব্যারোমিটারের পারদ সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হলেও শীত কমেনি। বরং সূর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশা আর উত্তরের বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। ফলে দিনমজুর, কৃষি শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে ভোর থেকে কাজে বের হওয়া দিনমজুর, ভ্যানচালক ও শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। ফলে শহরে মানুষের চলাচল অনেকটা কম দেখা গেছে।

শহরের উকিল বার চত্বরে কথা হয় রিকশাচালক রবিউল ইসলাম টুকুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কুয়াশা আর উত্তরের বাতাসের কারণে শহরে লোকজন কম, যাত্রীও মিলছে না। শীতের জন্য রিকশায় কেউ উঠতে চায় না। তবুও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঘর ছেড়ে বের হতে হচ্ছে।’ 

আরেক রিকশাচালক হায়দার আলী বলেন, দুদিন সূর্যের দেখা যায়নি। ঠাণ্ডা বাতাসে শীতের কষ্ট বেড়ে গেছে। শীত ও কুয়াশার মধ্যে খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। যাত্রী কম হওয়ায় আয় কমেছে। খুব কষ্টে দিন পার করছি। হোটেল শ্রমিক আলী আহমেদ বলেন, চার-পাঁচ দিন ধরে খুব শীত পড়ছে। কষ্ট হলেও ভোরে কাজে বের হতে হচ্ছে। কাজ না করলে সংসার চলবে না। বাধ্য হয়ে এত শীতেও বের হয়েছি। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। 

যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের কৃষক শাহাবুদ্দিন বলেন, সাধারণত তারা মাঠে যান সকাল ৭টার আগে। কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে এখন মাঠে যেতে ৯টা থেকে ১০টাও বেজে যাচ্ছে। এখন মাঠে আলু ও বোরো ধান রোপণ ও পরিচর্যার কাজ চলছে। 

যশোর শহরের লালদীঘি পাড়ে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হন। প্রচণ্ড শীতে সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কাজ না পেয়ে অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ কাজের আশায় অনেক বেলা পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন। 

শ্রমজীবী মনিরুল বলেন, শীতে একদিন কাজ পাই তো, তিন দিন পাই না। এক সপ্তাহ ধরে কাজ হচ্ছে না। শীতের মধ্যে প্রতিদিন ভোরে এসে বসে থেকেও কোনো লাভ হচ্ছে না। 

জেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে জেলায় রবি ফসল, বোরো ধানের বীজতলা এবং মৌ খামারিদের মধু সংগ্রহে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। জেলার আট উপজেলার মাঠে সরিষা, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল এবং বোরো ধানের বীজতলা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে কোনো ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে। জ্বর, হাঁচি, কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। শীতকালীন রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে গরম পানি পান করা ও গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক রাসেল।

সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী
ছবি: খবরের কাগজ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জে পৌঁছেছে সেনাবাহিনী। এদিকে, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় পৌঁছায় সেনাবাহিনীর এ দল। আজ থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে সেনাবাহিনী।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অন্যান্য সংস্থাকে সহযোগিতা করতে এক সপ্তাহের জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানিবাস থেকে সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে এসে পৌঁছায়। তবে এই সেনাবাহিনী দলে কত প্লাটুন বা কতজন সেনাসদস্য রয়েছেন তা নিশ্চিত করতে পারেনি জেলা প্রশাসন।

এদিকে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করেছে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জে এখনো কোনো খারাপ প্রভাব পরেনি। আশঙ্কামুক্ত থাকায় জেলার জীবনযাত্রা ছিল পুরোপুরি স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ছাড়াই বাইরে বের হয়েছেন। যান চলাচলও ছিল স্বাভাবিক।

সোমবার সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার বরাবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কে এম ইয়াসির আরাফাতের লেখা এক চিঠিতে ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবীবুল্লাহ জানিয়েছে, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আগামীকাল ২৩ জুনও জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এ জেলার মানুষ শান্তিপ্রিয়, তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হবার কোনো আশঙ্কা নেই। তবুও জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে জেলায় পৌঁছেছে।

বাদল সাহা/নাঈম

রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

ভারতের আগ্রাসন, গাইবান্ধায় রাম মূর্তি নির্মাণ এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে জামালপুরের ইসলামপুরে কালেমা খচিত পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে উপজেলার ডিগ্রিরচর এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামপুরের ডিগ্রিরচর এলাকার স্থানীয় জামিয়া মফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলার ডেফলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় হাফেজ লিয়াকত হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, ডিগ্রিরচর জামিয়া মফিজিয়া মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা আবু রায়হান, মাওলানা আহামাদউল্লাহ বিন আমান, উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সহ-সম্পাদক শামসুদ্দোহা সজিব, চরপুটিমারী ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাওলানা নাজমুল হুসাইনসহ অন্যান্যরা।

এ সময় বক্তারা ভারতীয় আগ্রাসন, গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণ ও উগ্র হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রশ্নে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা জুলফিকার আলী, মাওলানা আলাউদ্দিন, মাওলানা শাহিনুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন শাখার আমির মাওলানা আমিনুর ইসলামসহ অন্যান্যরা।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা ডেফলা সেতুর বিভিন্ন বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কালেমা খচিত পতাকা উত্তোলন করেন।

আসমাউল আসিফ/নাঈম

নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভুঁইয়া। ছবি: খবরের কাগজ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কায় গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের জন্য চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা–২।

সোমবার (২২ জুন) ওই মন্ত্রণালয়ের সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে এ চিঠিটি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করা হয়।

এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভুঁইয়া বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে পরিপত্রের চিঠি আমরা পেয়েছি। তাতে পরিষ্কার করে বলা আছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন ধরনের বেআইনি কার্যক্রম, বিশেষ করে বেআইনি মিছিল শোডাউন করার প্রচেষ্টা আছে এবং এর ফলে নাশকতা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার একটি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটার পাশাপাশি মানুষের জান-মালের নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটতে পারে। সেজন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার এর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে আমাদের কাছে রিপোর্ট করেছেন। তারা এখানে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়নে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য কাজ করবেন। তাদের পাশাপাশি আমাদের জেলা পুলিশ আছে, মেট্রোপলিটন পুলিশ আছে, আনসার ও বিজিবি সদস্যরাও কাজ করবেন। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সরকারি নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত এবং নিয়োজিত বাহিনীগুলোকে সহায়তা করে যাচ্ছি। যাতে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি। এখানে বিশাল সংখ্যক সেনাসদস্য অবস্থান নিয়েছেন। যেহেতু আমাদের জেলায় প্রচুর সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ওনাদের এসেস্ট করবেন। 

পলাশ/নাঈম

ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ফরিদপুর শহরে প্রবেশ করে এবং দায়িত্ব গ্রহণ করে।

জানা গেছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে ১৫ আরই ব্যাটালিয়নের ১২৫ জন সেনাসদস্য ফরিদপুরে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে ছয়টি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফরিদপুরে সেনাসদস্যরা মাঠে কাজ করবেন।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় এক সপ্তাহের জন্য এ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় সেনাবাহিনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

নয়ন/রিফাত/

শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার
দানবাক্স খুলে এভাবেই প্রশাসনিক ব‍্যবস্থায় টাকা গননা করা হয়। ছবি: মামুন হোসেন

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সে মাত্র পাচ দিনে মিলল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬৯ টাকা, ১০ সৌদি রিয়াল ও ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার। প্রায় ৭০০ বছরের প্রথা ভেঙে প্রথমবারের মতো মাজারের টাকা এভাবে প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিলগালা করা দানের বড় তিনটি বাক্সের (ডেগ) মুখ খুলে এসব পাওয়া যায়।

টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন দরগাহ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। মাজারের ইতিহাসে এর আগে এভাবে প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হয়নি।

হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (সদ্য প্রত্যাহার) মো. সারওয়ার আলম। এতে দেশজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দেয়। এরই মধ্যে রবিবার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

গণনা শেষে সন্ধ‍্যায় ওয়াকফ অডিটর সজল মিয়া জানান গত ১৮ জুন বিকেল চারটা থেকে ২৩ জুন বেলা দুইটা পর্যন্ত ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬৯ টাকা, ৫ রিয়ালের দুটো সৌদি নোট ও ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।

গণনা প্রত‍্যক্ষ‍ করে সদ‍্য সাবেক ডিসি সারওয়ার মাজার এলাকা ত‍্যাগ করেন। এর আগে মাজারে গেলে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সার্বিক বিষয়ে তিনি একটি ভিডিও বার্তা দেবেন।

দানের টাকা গুণতে গিয়ে দানবাক্সে পাওয়া গেছে, প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমের প্রশংসা করে একটি বেনামি চিঠি। 

চিঠি পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (সাধারণ শাখা) তানভীর হোসাইন সজীব।

তিনি জানান, দানবক্সের টাকা গণনাকালে কয়েকটি চিঠি ও কিছু স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।

ওই ​চিঠিতে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দরগাহর অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এবং এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দরগাহর জায়গায় দখল করে দোকানপাট ও বাড়ি তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস‍্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মঙ্গলবার সিলেট আসছেন। তার সফরসূচির মধ‍্যে মাজার ব‍্যবস্থাপনা বিষয়ে বৈঠক রয়েছে।

নাঈম/