চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে বেড়েছে চিনির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা। এর প্রভাব পড়েছে খুজরা বাজারে। তবে সবজি, মাছ, মাংস বিক্রি হয়েছে আগের দামেই। চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের বড় পাইকারি বাজারে খাতুনগঞ্জে সপ্তাহখানেক আগেও প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছিল ৮৭ টাকায়। গতকাল শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৯১ টাকায়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘গত বছর মিলারদের পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও চিনি আমদানির সুযোগ পেয়েছিলেন। তাই চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে সাধারণ ব্যবসায়ীদের চিনি শেষ হয়ে যাওয়ায় মিলাররা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই দামটা বেড়ে গেছে।’
এদিকে পাইকারিতে দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগরের আগ্রবাদ, হালিশহর ও কাজীর দেউড়ি এলাকার অলিগলি ও সড়কের পাশের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয়েছিল ৯০ টাকায়। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়।
নগরের হালিশহর এলাকার আল মদিনা স্টোরের মালিক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ‘গত বছর অধিকাংশ সময় বাজারে চিনির দাম স্থিতিশীল ছিল। বর্তমানে আমাদের বাড়তি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। তার ওপর গাড়ি ভাড়া, মজুরি খরচ তো আছেই। তাই দামটা বেড়েছে।’
একই এলাকার বাসিন্দা মো. ইউসুফ বলেন, ‘বাজারে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম বাড়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগামী মাসে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। তাই এখন থেকেই দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর এটাকেই সুযোগ হিসেবে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।’
এদিকে কাজীর দেউড়ি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়, সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির লাল ডিম বিক্রি হয় ১১০ টাকায়। পাশাপাশি বাজারে প্রতিকেজি হাঁড়সহ গরুর মাংস ৮৫০ টাকা ও হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতিকেজি খাসির মাংস বিক্রি হয় ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
সবজির বাজারে প্রতিকেজি নতুন আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং পুরোনো আলু ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলা কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিকেজি মিষ্টিকুমড়া এবং এক হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। তাছাড়া প্রতিকেজি টমেটো, শিম, শালগম বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। কাঁকরোল, পটোল, দেশি গাজর, দেশি শসা, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, কচুরলতি, কচুরমুখী, লাউ, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
মাছের বাজারে প্রতিকেজি লইট্যা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, রুই ও কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাশ ২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, কোরাল ৭০০ টাকা, আইড় মাছ ৬০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, রূপচাঁদা ৮৫০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প ২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা ও নাইলোটিকা ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
তাছাড়া মুদি দোকানে প্রতিকেজি মসুর ডাল (মোটা) ৯০ টাকা, খেসারি ডাল ৯০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা, মুগ ডাল (বড়) ১২০ টাকা, মুগ ডাল (ছোট) ১৪৫ টাকা ও মাষকলাই ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। পাশাপাশি প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ১১০ টাকা ও প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেল ১৭২ টাকায় বিক্রি হয়।