দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও ডাকাত দমনে কোস্টগার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কোস্টগার্ড গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যুবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশীয় অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জামাদি, ৪৪৮ রাউন্ড কার্তুজ এবং জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করে। এসব অভিযানে মোট ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় নৌকায় ভ্রমণ করার সময় ডাকাত মাসুম বাহিনী ২ জন পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি জানার পর কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্য ও ড্রোন নজরদারি করে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযানের পর জিম্মি পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করা হয়।
কোস্টগার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী এবং রাঙ্গা বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়াও, অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ একাধিক ডাকাত সহযোগী আটক করায় ছোট সুমন বাহিনী, ছোটন বাহিনী এবং কাজল মুন্না বাহিনী ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে সক্রিয় করিম শরিফ বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী ও দয়াল বাহিনী দমনে কোস্টগার্ড টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আবরার হাসান বলেন, ‘সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ ছাড়াও জলোচ্ছ্বাস এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে কয়েকটি ডাকাতদল বনজ সম্পদ লুট, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছে। কোস্টগার্ড সূচনালগ্ন থেকে ডাকাতের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা, বনজসম্পদ সংরক্ষণ, জেলে ও বনজীবীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিত এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’