চট্টগ্রাম নগরের আতুরের ডিপো এলাকা থেকে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত মূল আসামিসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ গাজীপুর, ঢাকার মোহাম্মদপুর ও চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানাধীন বড়পুল এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে।
এসময় ছিনতাই হওয়া ৩৫০ ভরি স্বর্ণের মধ্যে ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয় (আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। পাশাপাশি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মূল আসামী সুমন চন্দ্র দাস (৪২) ও তার স্ত্রী পান্না রানী দাস ওরফে দিপালী রানী দাশ (৩৮), পান্নার চাচাতো ভাই রবি কুমার দাস (৪০), মূল আসামী সুমনের সহযোগী মো. মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমন (২২) ও গোপন তথ্যদাতা বিবেক বনিক (৪২)।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) মো. হাবিবুর রহমান ও নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ জানুয়ারি ভোর ৫টার দিকে সবুজ দেবনাথ তার সঙ্গে আরও দুইজনকে নিয়ে একটি সিএনজি যোগে কোতোয়ালী থানাধীন সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা নগরের আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা অজ্ঞাতনামা চার জন ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এসময় তাঁদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার (৩৫০ ভরি), ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এঘটনায় গত ৫ জানুয়ারি পাঁচলাইশ মডেল থানায় ৩৯৪ ধারায় মামলা হয় (মামলা নং-১)।
মামলার পর গত ৮ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকায় কাশিমপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু (৩০) ও রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমন (২২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ১নং আসামি সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেন, তার নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো তার স্ত্রী অর্থাৎ ৫নং আসামি পান্না রানী দাস ওরফে দিপালী রানী দাশ (৩৮) ও তার চাচাতো ভাই ৪নং আসামি রবি কুমার দাস (৪০) এর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়ের বাজার এলাকা থেকে ৪নং আসামি রবি কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তিমতে একই দিন রাত ১০টা ৫০ মিনিটে নগরের হালিশহর থানাধীন বড়পুল এলাকা থেকে ৫নং আসামি পান্না রানী দাস ওরফে দিপালী রানী দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়াও ১নং আসামি সুমন চন্দ্র দাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গোপন তথ্যদাতা হিসেবে ৬নং আসামি বিবেক বনিক (৪২)-কে ৮ জানুয়ারি রাত পৌণে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে আসামীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ৯ জানুয়ারি সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন সিরাজ মিয়ার বিল্ডিংয়ের ৫ম তলার একটি বাসা থেকে একটি কাগজের বাক্স উদ্ধার করা হয়। ওই বাক্সের ভেতর মোজায় মোড়ানো ও হলুদ রঙের কস্টেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ২৯টি স্বর্ণের বার (২৯০ ভরি) পাওয়া যায়। এঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত আছে।