মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের গোবরর্ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক উন্নয়ন কাজের কারণে স্বাভাবিক পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন বিদ্যালয়ের ঠিক সামনেই পিচ গলানোর জন্য আগুন জ্বালানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে চলছে অন্যান্য নির্মাণকাজ। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে কালো ধোঁয়া, ধুলাবালি ও ছাই। এতে বিদ্যালয় চত্বরের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকরা বিষয়টিকে চরম অমানবিক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় ঠিক বিদ্যালয়ের সামনে পিচ গলানো ও অন্যান্য নির্মাণকাজ পরিচালনা শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি এ ধরনের পরিবেশে প্রতিদিন ক্লাস করায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটছে। তারা দ্রুত বিদ্যালয়ের সামনের এলাকা থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনেই সড়কের পিচ গলানোর কাজ চলছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কালো ধোঁয়া, যা বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা ও শিক্ষককক্ষে ঢুকে পড়ছে। ধোঁয়ার সঙ্গে আগুনের পোড়া ছাই ও ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বিদ্যালয়ে। ফলে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করতে পারছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে বসলে ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। অনেক সময় মাথা ঘোরে, ঠিকমতো পড়া বোঝা যায় না।
অতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণেও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। তারা বলেন, প্রতিদিন ক্লাস চলাকালে অনেক শিক্ষার্থী কাশি, চোখ জ্বালা, শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরার সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় দরজা-জানালা বন্ধ করেও ধোঁয়া ও ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম মনজুর মৌলা চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক নির্মাণের সব সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে আগুন জ্বালিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এতে প্রচুর কালো ধোঁয়া বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করছে। ছোট ছোট শিশু এই পরিবেশে বসে ক্লাস করতে পারছে না, অনেকের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে অবগত করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার সোমা ভট্টাচার্য জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি অবগত। বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম বলেন, ‘রাস্তার পাশে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা না থাকায় ওই স্থানটি সাময়িকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ওই সময় বিদ্যালয় বন্ধ ছিল এবং বর্তমানে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।