বগুড়ায় যমুনা নদীর অধিকাংশ চরেই সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় চিন্তিত ভোটাররা। প্রশাসনিক উদ্যোগে কেন্দ্রের নিরাপত্তা বিষয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতে কেন্দ্র নিয়ে স্বস্তিতে আছেন মানুষ। তবে কেন্দ্রে যাওয়া-আসার পথের নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই শঙ্কায় আছেন।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নই যমুনা নদীর চরে। যমুনার অধিকাংশ দুর্গম চরে দ্রুত চলাচলে মোটরসাইকেলের বিকল্প নেই। আর সে কারণেই অধিকাংশ ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে হয় হেঁটে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান জানান, চরে কেন্দ্রের পাশাপাশি ভোটারদের যাওয়া-আসার পথ নির্বিঘ্ন এবং নিরাপদ করার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হোসাইন মুহাম্মাদ রায়হান বলেন, ‘চরাঞ্চলে যে ভোটকেন্দ্রগুলো রয়েছে, বিশেষ করে আমাদের দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ, সেসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে কোর মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে আর্মি, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন। চরের কেন্দ্রে কেন্দ্রে আর্মির ক্যাম্প হবে। চরের কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
ভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করতে তারা কাজ করছেন।’ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যেই যানবাহন রিক্যুইজিশন করার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান।
জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর, বোহাইল, চালুয়াবাড়ি, কর্নিবাড়ি ও কাজলা ইউনিয়নে যমুনা নদীর প্রত্যন্ত চরে ২০ হাজার ৪৮ নারী ভোটারসহ মোট ভোটার ৪০ হাজার ৮৬৩ জন। কেন্দ্রে যাওয়া-আসার পথের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত চরাঞ্চলের অনেকেই জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কমে যেতে পারে।
জেলা নির্বাচন অফিসের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, বগুড়া-১ আসনে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭২০ নারী ভোটারসহ মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৪-এর মধ্যে সারিয়াকান্দিতে ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৬১ জন। সারিয়াকান্দির মোট ভোটারের ২০ দশমিক ৬৬ শতাংশই চরের ১৯ কেন্দ্রের ভোটার।
চরের অন্যতম স্পর্শকাতর কেন্দ্র ছোনপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সারিয়াকান্দি উপজেলার কার্নিবাড়ি ইউনিয়নে ওই কেন্দ্রে ভোটার আছেন ৩ হাজার ৪০৯ জন। ওই স্কুলের শিক্ষক মো. এমদাদুল হক জানান, প্রশিক্ষণের সময় ভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বলা হয় কেন্দ্রটি স্পর্শকাতর। সে কারণে সবাই সতর্ক থাকেন। মো. এমদাদুল হক বলেন, এ কেন্দ্রে ভোটের সময় যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেভাবে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা সম্ভব হলে কেন্দ্রে কোনো সমস্যা হবে না, কেন্দ্রে যাওয়া-আসার পথে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আছে ভোটারদের মাঝে।
মো. শাকিল, এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন। ভোট দেওয়ার কোনো অভিজ্ঞতা নেই শাকিলের। ভোট দেওয়ার সুযোগ হবে এবার। বিষয়টি তার ভেতর অন্যরকম অনুভূতি সৃষ্টি করেছে। কিন্তু তারও শঙ্কা কেন্দ্রে যাওয়া-আসার পথের নিরাপত্তা নিয়ে। মো. শাকির বলেন, ভোটারদের অনেকেরই বাড়ি কেন্দ্র থেকে তিন কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি দূরে। আর তাদের অধিকাংশকেই কেন্দ্রে যেতে হবে হেঁটে। আর সে কারণেই যাওয়া-আসার পথ নিরাপদ হওয়া জরুরি। তা না হলে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কমে যেতে পারে।
সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়ন কাজলা। ওই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সময় জনগণের খুব কাছাকাছি ছিলেন মো. আনিস মোল্লা। তিনি জানান, নির্বাচনে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের সমর্থকদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না হলে নির্বাচনের বিরোধিতা করে কেউ কেন্দ্র বা কেন্দ্রের বাইরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে এমন আশঙ্কা এখনো ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। মো. আনিস মোল্লা বলেন, চরদলিকা, হাটবাড়ি, মূলবাড়িসহ অনেক চর থেকে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে হবে হেঁটে। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রে যাওয়া-আসার পথে নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যে বলা হয়েছে, সারিয়াকান্দিতে চরাঞ্চলে যে ১৯টি কেন্দ্র রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট রয়েছে ছোনপড়া কেন্দ্রে। ৩ হাজার ৪০৯টি আর ৩ হাজার ১৯৫ ভোট আছে বোহাইল ইউনিয়নে ধারাবর্ষা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সবচেয়ে কম ভোটার আছে কাজলা ইউনিয়নে বেনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এখানে ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৪১। ভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চরাঞ্চলে ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে হবে হেঁটে।