চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় মিলনমেলা ও উৎসব আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা আগামী ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। ১১ দিনব্যাপী এই মেলা চলবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
মেলায় ১০ লক্ষাধিক পূণ্যার্থীর অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কুম্ভমেলা কমিটি।
প্রতি ৩ বছর পর পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গুনাগারী ঋষিধামে হিন্দু সম্প্রদায়ের এই ধর্মীয় মেলা ও উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঋষিধাম এরিয়া ছাড়াও গুনাগারীর দুই কিলোমিটার এলাকা লোকেলোকারণ্য হয়ে যায়।
এটি বাংলাদেশ এবং বিশ্বের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক মিলনমেলা। পার্শ্ববর্তী ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন এমনকি জাপান থেকেও হিন্দু ধর্মগুরুরা এতে যোগ দেন।
মেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজক কমিটি। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, যাতায়াত ও ভক্তদের আবাসন ব্যবস্থাসহ সব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
মেলার প্রস্তুতি ও কর্মসূচি নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বাঁশখালীর ঋষিধামে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেন কুম্ভমেলা কমিটি। সভায় জানানো হয়, এটি বাংলাদেশের একমাত্র ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা, যা প্রতি তিন বছর অন্তর বাঁশখালীর এই পুণ্যভূমিতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
আয়োজকরা বলেন, ‘ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক সাধনার এক অনন্য ক্ষেত্র। ভক্তদের বিশ্বাস, এ সময় পুণ্যস্নান করলে পাপ মোচন হয়। তাই কুম্ভমেলার প্রধান আকর্ষণ হলো পুণ্যস্নান। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও সাধু, মহাত্মা ও ঋষিরা মেলায় অংশগ্রহণ করবেন।’
মেলা চলাকালীন প্রতিদিন গীতাপাঠ, ধর্মীয় আলোচনা, সেমিনার ও অহোরাত্র নামসংকীর্তন অনুষ্ঠিত হবে। ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এটি একটি বৃহৎ সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঋষিধাম ও তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ, শ্রীগুরু সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিমল কান্তি দেব। সভায় সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট অনুপম বিশ্বাস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব শ্রী তড়িত কান্তি গুহ, শিক্ষক শ্রী খোকন চক্রবর্তী, ঋষি অদ্বৈতানন্দ পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শ্রী কাঞ্চন বিশ্বাস, মহিলা শাখার সভানেত্রী শ্রীমতি পান্না পাল, ঋষি অদ্বৈতানন্দ পরিষদ বাঁশখালী শাখার সভাপতি শ্রী অলক দাশ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রদীপ কান্তি গুহ, বাঁশখালী শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী ঝুন্টু কুমার দাশ ও বাঁশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি শফকত হোসাইন চৌধুরী, সেক্রেটারি আব্দুল মতলব কালুসহ অন্যান্য নেতারা।
শফকত/রিফাত/