লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় মানবপাচারকারীসহ তিনজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রংপুর ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ডিএএমপি-১ প্রধান পিলার ও উপ-পিলার ৮-এর নিকট দিয়ে এক ব্যক্তি ও এক শিশুকে ভারতে পাচারের চেষ্টা করা হয়। এ সময় দহগ্রামের আঙ্গরপোতা বিজিবি ক্যাম্পের টহলদল দহগ্রামের মিস্ত্রিপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
আটকরা হলেন- পাটগ্রাম পৌরসভার বেংকান্দা এলাকার মানবপাচারকারী সুজন দাস (৩০), পাচারের শিকার হাতীবান্ধা উপজেলার পুরাতন কাচারী গাওচুল্কা এলাকার হেমন্ত দাস (২৫) ও শিশু বলরাম রায় (১২)।
রংপুর ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, আটককরা মানবপাচারকারী ও অবৈধভাবে গমনকারী ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ছয়জন মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। আটক মানবপাচারকারী ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যসহ অবৈধ পন্থায় ভারতে প্রবেশের চেষ্টাকারী দুইজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটকদের তল্লাশি করে দুটি মোবাইল ফোন, তিনটি সিমকার্ড ও নগদ ১২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আঙ্গরপোতা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার আখেরুজ্জামান বাদী হয়ে মানবপাচার আইনে মামলা করেন। পরে আটক তিনজনকে পাটগ্রাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অপরদিকে, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে রংপুর ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ডাংগাটারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৮০১ প্রধান পিলার ও উপ-পিলার ৮-এর নিকট দিয়ে ৫-৭ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতের কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় ৩০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নিউ কুচলিবাড়ি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে রাশেদুল ইসলাম (২৫) নামে এক বাংলাদেশি চোরাকারবারিকে আটক করে। তিনি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের পশ্চিম জমগ্রাম এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদের ছেলে।
রংপুর ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম আলদীন বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ‘বিজিবি মানবপাচার আইনে মামলা করে আসামিদের থানায় হস্তান্তর করেছে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ প্রহরায় তাদের লালমনিরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
মিনহাজ/রিফাত/