চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের নির্বাচনি মাঠে উত্তেজনা নেই বললেই চলে। শান্ত এই পরিস্থিতিতে বৃহত্তর সুন্নী জোট মনোনীত ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী এস এম শাহজাহানের নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাসখামা গ্রামের মধ্যমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
ইসলামি ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত নির্বাচনি অফিসে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং অফিসে টানানো ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে। এতে অফিসের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ঘটনার পরদিন আজ সোমবার দুপুরে ইসলামি ফ্রন্টের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সচিব মো. নাজিমুদ্দীন জানান, এ ঘটনায় আনোয়ারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগে কাউকে নির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে তখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাসখামা গ্রামের মধ্যমপাড়া এলাকায় অবস্থিত নির্বাচনি অফিসটির ভেতরে চেয়ার-টেবিল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ছেঁড়া ব্যানার ও ফেস্টুন মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনার পর এলাকায় এক ধরনের নীরবতা বিরাজ করছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এ বিষয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র কয়েক দিন আগেই গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) প্রার্থী এস এম শাহজাহান নিজে উপস্থিত থেকে অফিসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের তিন দিনের মাথায় হামলার এ ঘটনাকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মহল উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে।
ছাত্রসেনার স্থানীয় ওয়ার্ড সভাপতি মোহাম্মদ শরফুদ্দীন কাদেরী বলেন, ‘ইসলামি ফ্রন্টের প্রতি সাধারণ মানুষের সাড়া দেখে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। এই হামলা তারই বহিঃপ্রকাশ।’
এদিকে ইসলামি ফ্রন্টের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সচিব মো. নাজিমুদ্দীন বলেন, ‘হামলার বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যৌথবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
হামলার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে ইসলামি ফ্রন্ট ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল থেকে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নির্বাচনের আগমুহূর্তে এমন ঘটনার কারণে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হা-মীম/মাহফুজ