২০২০ সালের ২৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে চালু করা হয় ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলস্টেশন। দক্ষিণাঞ্চলে রেল যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হলেও স্টেশনে যাতায়াতের প্রধান সংযোগ সড়কটির বেহাল দশা এখনো কাটেনি। মহাসড়ক থেকে রেলস্টেশনে যাওয়ার প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দে ভরা থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
মামুন মুন্সী নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ভাঙ্গা গোলচত্বর থেকে রেলস্টেশনে যাওয়ার এই সংযোগ সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে অনেকেই রেলে ভ্রমণের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্টেশনে যেতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে দিন দিন ভাঙ্গা রেলস্টেশনে যাত্রী সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
রাস্তার করুণ অবস্থার সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। মাত্র দেড় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে জনপ্রতি গুনতে হচ্ছে ২০ টাকা ভাড়া, যা যাত্রীদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্রাট নামের এক যাত্রী বলেন, এত অল্প দূরত্বে এতো বেশি ভাড়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
অন্যদিকে, আবুল বাশার নামের এক ভ্যানচালক বলেন, রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় ভ্যান দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেশি ভাড়া নেওয়া হলেও মেরামত খরচ ও সময় ক্ষতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
সাইফুল্লাহ শামীম নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ভাঙ্গা রেলস্টেশন চালুর পাঁচ বছর পার হলেও সংযোগ সড়কটি সংস্কারের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় স্টেশনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যতে হয়তো যাত্রী সংখ্যা আরও কমে যাবে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা রেলস্টেশন মাষ্টার মো. রনি ব্যাপারী বলেন, এই সড়ক দিয়ে রেল প্রজেক্টের ভারী যানবাহন চলাচল করার কারণে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
ভাঙ্গা রেলস্টেশনের যাত্রী বাড়াতে ও রেলসেবাকে জনপ্রিয় করতে দ্রুত ভাঙ্গা গোলচত্বর থেকে রেলস্টেশন পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি সংস্কার ও চলাচলের উপযোগী করে তোলার দাবি স্থানীয়দের।
মোসলেউদ্দিন/নাঈম