খাল খননের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে নগরীর খুলশী লেকসিটি আবাসিক এলাকার কৈবল্যধামের পেছনে কালির ছড়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে মেয়র একথা বলেন।
তিনি জানান, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় নগরীর প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতা মুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই বর্তমান উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নগরীর খালগুলো দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দখলমুক্তকরণ ও নিয়মিত খনন এই দুইটি কাজ একসঙ্গে চালানো হচ্ছে।
নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা এখন জলাবদ্ধতা। বর্ষা মৌসুম এলেই ফরিদার পাড়া, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে সিটি কর্পোরেশন খাল পুনরুদ্ধার, নালা পরিষ্কার এবং পানি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক খালগুলোই ছিল চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। সেগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে অল্প সময়ে জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। কালির ছড়া খাল খনন তারই একটি অংশ। পর্যায়ক্রমে নগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ খাল পরিষ্কার ও খনন করা হবে।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বর্তমানে নগরীর ৩৬টি খালে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং অবশিষ্ট ২১টি খাল পরিষ্কার ও খননের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গ্রহণ করবে। তবে শুধু খাল খনন করলেই হবে না খাল রক্ষা, দখলমুক্ত রাখা এবং বর্জ্যমুক্ত রাখতে নাগরিকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে খাল ভরাট বা দখল করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, খাল খননের মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব, অন্যদিকে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় জলাবদ্ধতা হ্রাস, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পানি সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে পানিসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মা, মেয়রের জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী আনু মিয়া, আবু তাহের প্রমুখ।
তারেক/রিফাত/