ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মোট ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১ হাজার ৪৯১টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অর্থাৎ জেলার ৭৫ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোটকেন্দ্রগুলোকে ‘রেড’, ‘ইয়েলো’ ও ‘গ্রিন’— এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করেছে পুলিশ। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে ‘রেড’, ঝুঁকিপূর্ণকে ‘ইয়েলো’ এবং ঝুঁকিমুক্ত কেন্দ্রগুলোকে ‘গ্রিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, এবার ‘রেড’ চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৬৫৪টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে ৩১০টি এবং জেলায় ৩৪৪টি। ‘ইয়েলো’ চিহ্নিত কেন্দ্র ৮৩৭টি— নগরীতে ১৫১টি ও জেলায় ৬৮৬টি। আর ‘গ্রিন’ চিহ্নিত কেন্দ্র রয়েছে ৪৭৪টি, যার মধ্যে নগরীতে ১৪৬টি এবং জেলায় ৩২৮টি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রকে বিবেচনায় নিয়ে নগর ও জেলা পুলিশ পৃথক নিরাপত্তাবলয় তৈরির পরিকল্পনা করছে। এবার ভোট কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন ৪৩ হাজার ১০২ জন কর্মকর্তা। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাদের বাছাই করা হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অন্যতম কারণ দলীয় কোন্দল ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্র এবং নির্বাচনে অংশ না নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোকেও বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার করা না গেলে ভোটের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তথ্যমতে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জেলার ১৬টি থানা নিয়ে গঠিত হয়েছে ১৩টি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৫ ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের কিছু অংশ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন। জোরারগঞ্জ ও মিরসরাই থানা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১ আসনে ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় মোট ১০৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এ আসনে কোনো কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া), চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-ইপিজেড-সদরঘাট), চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক), চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া) এবং চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ খবরের কাগজকে বলেন, ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের অবস্থান, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও স্থানীয় প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হচ্ছে। যেসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সেখানে বিশেষ নজরদারি থাকবে। কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনী ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করবে। তবে কেন্দ্রভেদে কতজন সদস্য মোতায়েন থাকবে, তা পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো পরিপত্র অনুযায়ী, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার আছেন ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ জন। নারী ভোটারের সংখ্যা ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ জন। ভোটারদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ৭০ জন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট প্রবাসীর মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোটার আছেন ৯৪ হাজার ৯৪১ জন। এবারের ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ১২ হাজার ৬০১টি।