চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকনকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন এই নেতা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, র্যাবের একটি দল তাকে আটক করে বন্দর থানায় সোপর্দ করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে এই নেতাকে আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানান জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ. এম. নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, স্কপ চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক এস. কে. খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সঙ্ঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির এবং বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন শাহিন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ পরিহার করে বারবার শ্রমিকদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রবিবার (৮ফেব্রুয়ারি) বন্দরের পাঁচজন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর সোমবার ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উস্কানিতে লিপ্ত হয়েছে।
তারা আরও বলেন, রবিবার গভীর রাতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর যখন বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও স্থিতিশীলভাবে চলছিল, ঠিক তখনই প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ও নেতিবাচক পদক্ষেপ গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দর পরিস্থিতি অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
স্কপ নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ইব্রাহিম খোকনসহ গ্রেপ্তারকৃত সব শ্রমিক নেতা-কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে আন্দোলনরত বন্দর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে জারি করা হয়রানিমূলক সাময়িক বরখাস্ত ও দমনমূলক সকল আদেশ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দমন–পীড়ন, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন দমন করা যাবে না। বন্দর ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রামে শ্রমিকরা অতীতেও আপস করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। প্রশাসন যদি এই উসকানিমূলক আচরণ থেকে সরে না আসে, তবে এর দায় সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।
স্কপ বিশ্বাস করে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এই বন্দরের শ্রমিকদের কণ্ঠরোধ করে কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। অবিলম্বে দমননীতি পরিত্যাগ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে এগিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্কপ।
নাঈম/