চট্টগ্রামের বায়েজিদে আবুল খায়ের গ্রুপের আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্ট স্টারশিপ কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে অন্তত ১১ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বায়েজিদের অক্সিজেন এলাকার স্টারশিপে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, আবুল খায়ের গ্রুপের স্টারশিপ কারখানায় দুধ প্রক্রিয়াজাত করার সময় মেশিনের একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে কারখানার একাংশে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি দগ্ধ ১১ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে তিনজনকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বায়েজিদ থানার অক্সিজেন পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কমর্কর্তা(ওসি) মোহাম্মদ হারিজ বলেন, খবর পেয়ে পৌঁছে দেখি কয়েকজন শ্রমিককে আহত অবস্থায় বের করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। শ্রমিকরা কারখানার গেট ভাঙচুর করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রমিকরা জানায়, বিস্ফোরণের শব্দ ও আগুনের কারণে কারখানার অন্যান্য শ্রমিকরা ছুটে আসে। কারখানায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। শ্রমিকদের আপত্তি সত্ত্বেও অরক্ষিত কারখানায় কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এমনকি বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তা রক্ষীরা কারখানার সব গেট বন্ধ করে দেয়। এজন্য অন্যান্য শ্রমিক দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন জানান, নগরীর অক্সিজেন এলাকায় আবুল খায়ের গ্রুপের মিল্ক কারখানায় দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বোতলজাত যন্ত্রাংশ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।
আবুল খায়ের গ্রুপের এইচআর এডমিন বিভাগের ইনচার্জ মো. ইমরুল কাদের ভূঁইয়্যা বলেন, আমাদের মিল্ক প্রোডাক্ট কারখানায় শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। কারখানায় নিরাপত্তাজনিত কোনো ত্রুটি ছিল না। ঘটনা শুনে অনেক লোক কারখানায় লুটতরাজ করতে আসে। আগুনের ঘটনায় মাত্র তিনজন আহত হয়েছে।
স্থানীয় মোহাম্মদ কালাম বলেন, বেলা ১১টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কাজে থাকা শ্রমিকদের শরীর ঝলসে যায়। অন্য শ্রমিকরা বের হওয়ার চেষ্টা করলে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই শ্রমিকরা গেট ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। পরে তাদের কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তা কর্তৃপক্ষ স্বীকার করছে না।
রিফাত/