ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি?

ধামরাইয়ে বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধ এখন ময়লার ভাগাড়, মাদকসেবীদের আড্ডাখানা

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
ধামরাইয়ে বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধ এখন ময়লার ভাগাড়, মাদকসেবীদের আড্ডাখানা
ঢাকার ধামরাইয়ে বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধ। ছবি: খবরের কাগজ

ঢাকার ধামরাইয়ে বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধ সারা বছরই থাকে অবহেলিত, ময়লার স্তুপও রাত নামতে শুরু হয় মাদকসেবীদের আড্ডা। নোংরা ময়লা আবর্জনায় সব সময় থাকে ভরপুর। দেখভালের দ্বায়িত্বে কেউ না থাকায় সারাবছর অবহেলিত থাকে শহিদদের স্মরণে বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতি স্তম্ভটি। 

দেশ স্বাধীনের ৪৪ বছর পর ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম এ মালেক ও সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের চেষ্টায় গণহত্যায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন ২০১৫ সালের ২৬ শে মার্চ। 

কিন্তু স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পর থেকে শুধু ১৬ই ডিসেম্বর বিভিন্ন পেশাজীবীদের শুরুর দিকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিতে দেখা গেলেও এখন আর তা দেখা যায় না। অথচ ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬শে মার্চ জাতীয় দিবসেও নির্মিত স্মৃতিসৌধটি অযত্নে অবহেলায় পরে থাকে। 

তাছাড়া ধামরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সংগঠন থেকেও স্মৃতিসৌধটির পবিত্রতা বা রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে কোনো খোঁজ-খবর নেন নি। সাপ্তাহিক বৃহস্পতিবার হাট বসে এখানে। এর জন্য আরও বেশি নোংরা অপরিষ্কার থাকে। স্মৃতি সৌধটির সঙ্গে ঘেষে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মালামাল রাখা হয়। 

স্মৃতি স্তম্ভটির চারদিকে কোনোরকম ইটের বাউন্ডারি দিলেও তার কোনো পলেস্তরার করা হয় নি। একাধিক জায়গায় ইট খসে পড়ছে। বাউন্ডারির ভিতরে খাবারের দোকান বসে। নোংরা করে রাখে স্থানটি। যার কোনো পবিত্রতাই নেই। কেউ কিছুই বলছে না। নেই কোনো মাথা ব্যথা। 

অপরদিকে স্মৃতি সৌধটির বাউন্ডারির ভিতরে টং দোকান বসিয়ে সেখানে সারাদিন একশ্রেণির খারাপ লোক খোলামেলা তাস খেলতে দেখা যায়। আর সন্ধ্যা নামলেই চলে মাদকের ছড়াছড়ি। কেউ ক্রয় করছে আবার কেউ মাদক বিক্রি করছে বলে একাধিক ব্যক্তি জানান।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে উপজেলার কালামপুর বাজারের শস্য বিক্রির হাটের পূর্ব উত্তর দিকের কর্ণারে নির্মিত স্মৃতি স্তম্ভটির এমন দৃশ্য দেখা যায়। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাকসেনারা ২০ জনকে ধরে এনে উপজেলার সূতিপাড়া-সানোড়া ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থানে শত বছরের পুরনো ঐতিহাসিক কালামপুর বাজারে সারিবদ্ধভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ২০ জনের মধ্যে শোকলাল নামে এক ব্যক্তিসহ ৩ জন জীবিত ছিল। আজ তারাও নেই। সেখানে বধ্যভূমি শনাক্ত করে শহিদদের স্মরণে দেশ স্বাধীনের ৪৪ বছর পর নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতি সৌধ। কিন্তু সেই স্মৃতিসৌধটি সব সময়ই থাকে অবহেলিত অবস্থায়। দেখভাল করার জন্য নেই কোনো লোকজন। 

বীরমুক্তিযোদ্ধা, উপজেলা প্রশাসন এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ওই স্মৃতিসৌধের বিষয়ে সারা বছর কোনো খোঁজ খবর নেয় নি। রাতের আঁধারে ওই স্মৃতিসৌধের মধ্যে বসে চলে মাদকসেবীদের আড্ডা। কালামপুর বাজার বনিক সমিতির সাবেক সভাপতি রবিউল করিম নিজ খরচে স্মৃতিসৌধের চারপাশে বাউন্ডারি তৈরি করে দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তিনি কোনো কার্যকরী ভূমিকাই রাখেন নি।

কিন্তু শহিদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করা হলেও সেখানে কোনো শহিদদের নাম ফলক লেখা নেই। এছাড়াও এর চতুর্দিকে রয়েছে নোংরা-ময়লা আবর্জনার স্তূপ। সামনে রয়েছে কয়েকটি রুটি সবজির দোকান। আর স্মৃতি স্তম্ভটির ভিতরে রয়েছে কয়েকটি চুলা। যেখানে খাবার রান্না করা হয়। পাশ দিয়ে দুর্গন্ধ যুক্ত ময়লার ড্রেন রয়েছে। স্মৃতি সৌধের উত্তর পাশে ময়লা আবর্জনার স্তুপ করে রাখা হয়েছে। কেউ কোনো কথা বলছে না। নেই বাজার কমিটির কোনো তদারকি। শহিদদের স্মরণে নির্মিত স্তম্ভটির পবিত্রতা রক্ষার কোনো ব্যবস্থাই নেই। 

এ বিষয়ে শহিদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধটির সামনে রুটির দোকানদার গৌতম চন্দ্র সাহা (৩৫) ও রিপন চন্দ্র দাস (৩২) বলেন, আমরা স্মৃতিসৌধের সামনে দীর্ঘদিন ধরে খাবারের দোকান করছি। কখনো বাজার বনিক সমিতির লোকজন আমাদেরকে না করেন নি। তারা শুরু ভাড়া নিয়ে থাকে। যতটুকু সম্ভব আমরাই স্মৃতিসৌধটি পরিষ্কার করে রাখি। কেউ কখনো এর পরিষ্কারের বিষয়ে মাথা ঘামান নি। অনেকে পায়খানাও করে রাখে। দূগন্ধ এড়ানোর জন্য একাধিকবার আমরা মাটি দিয়ে চাপ দিয়ে রাখি। কারণ আমাদের দোকানে নাস্তা করার জন্য লোকজন আসে।

কালামপুর বাজার পরিষ্কারক বিপ্লব ডোম (২৮) বলেন, আমরা ময়লা আবর্জনা এমনকি মরা লাশ পরিষ্কার করি। কিন্তু কখনো আমাদের এই স্মৃতিসৌধটি পরিষ্কারের বিষয়ে কিছু বলেন নি। সারা বছরই এটি অবহেলিত থাকে। ময়লা আবর্জনা দিয়ে থাকে ভরপুর। 

বিপ্লব আরও বলেন, আমরা এতো কিছু বুঝিনা। তবে স্মৃতিসৌধটির পবিত্রতা রক্ষার জন্য চারপাশে পরিষ্কার রাখা উচিত। পানির পাম্প লাগানো দরকার। সব সময় পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার রাখা যায়। এছাড়াও স্মৃতিসৌধের উপর গাছের ডালপালা কেটে পরিষ্কার করতে হবে। আমি যেহেতু বাজার পরিষ্কার করি তাই আমি এটিও পরিষ্কার করবো। কিন্তু এটা আমাদের দ্বায়িত্ব না, বাজার কমিটির দ্বায়িত্ব। তারা আমাদের বুঝিয়ে দিলেই আমরা পরিষ্কারের কাজ করবো।

নুর মুহাম্মদ (৫০) নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কালামপুর বাজারে কাজের জন্য আসি। কিন্তু কখনো কাউকে শহিদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধটির পরিষ্কারের বিষয়ে কাউকে কাজ করতে দেখি নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, শহিদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধটি ধামরাই উপজেলা প্রশাসন কিংবা জেলা পরিষদ থেকে এর কোনো খোঁজ খবর নেয় না। তাছাড়া কালামপুর বাজারের আশেপাশের গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারাও খবর নেন নি। এর বিষয়ে কেউ গুরুত্ব দেয় না। তাছাড়া ধামরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সংগঠন থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেন নি কখনো। স্থানীয়ভাবে স্মৃতিসৌধটির দেখভালের ব্যবস্থা করা উচিত। 

কালামপুর বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোসলেম উদ্দিন মুসা স্মৃতি স্তম্ভটির পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কিংবা পবিত্রতার বিষয়ে আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে কোন পদক্ষেপ নেন নি।  পাক সেনারা বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনকে ধরে এনে কালামপুরে গুলি করে হত্যা করেছিল। তাদের স্বরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধটির পবিত্রতা রক্ষার দ্বায়িত্ব আমাদের। যেকোনো জাতীয় দিবসের আগেই আমি নিজ উদ্যোগে এটি পরিষ্কারের ব্যবস্থা করবো। যাতে  বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহিদদের স্মরণে ফুলেল শুভেচছা পারে। সব সময় পরিষ্কার রাখারও ব্যবস্থা করবো। এর পাশে দোকানগুলো সরিয়ে দিবো যাতে স্মৃতিসৌধটি নোংরা ময়লা আবর্জনা না থাকে।

ধামরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড এর আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা মো. হাবিবুর রহমান তুলা  বলেন, কালামপুর বাজারের পাশে আগে নদী ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ জনকে ধরে এনে পাকসেনারা গুলি করে হত্যা করেছিল। তাদের মধ্যে শোক লাল নামে এক ব্যক্তিসহ তিন জন বেঁচে যায়। এখন তারাও জীবিত নেই। শহিদদের স্মরণে ওই বধ্য ভূমিতে যে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে এর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের একান্তই কর্তব্য। আমি ওই বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধটির বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সঙ্গে কথা বলবো। কীভাবে সব সময় এটি পরিষ্কার রাখা যায় এবং সৌধটির মধ্যে শহিদদের নাম খোদাই করে লেখার ব্যবস্থা করবো।

রুহুল আমিন/মাহফুজ 

 

ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের তারাগঞ্জে অবস্থিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর জেলার ডিআইজি (উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক) আমিনুল ইসলাম। 

ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস্ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউএসএ প্রবাসী মোঃ হাসানুজ্জামান হাসান এর নেতৃত্বে, সিইও ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস্ লিমিটেড এমএম খালিদ আহসান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ঘনিরামপুর গ্রামে অবস্থিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড পরিদর্শন করেন রংপুর জেলার বর্তমান ডিআইজি (উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক) আমিনুল ইসলাম। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক,নীলফামারী জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোঃ ফরহাদ হোসেন খান,তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন প্রমুখ।

পরিচালিত ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড মূলত একটি ১০০% রপ্তানিমুখী অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের জুতা তৈরি ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এটি উত্তরবঙ্গের এবং বিশেষ করে তারাগঞ্জ এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র ও বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।

এসএন/

বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম
দিনাজপুরের পাথরখনি। ছবি: খবরের কাগজ

বিস্ফোরক সংকটের কারণে প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) পাথর উত্তোলন কার্যক্রম। 

গত ১৯ মে থেকে খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও এখনও স্বাভাবিক হয়নি উৎপাদন কার্যক্রম।

খনি সূত্রে জানা গেছে, ভূগর্ভস্থ খনিতে পাথর উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত প্রধান বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের সরবরাহ না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

খনি কর্তৃপক্ষ প্রথমে ১৫ দিনের মধ্যে কার্যক্রম পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ থেকে বিস্ফোরকবাহী জাহাজ আসতে বিলম্ব হওয়ায় আমদানি ও পরিবহন প্রক্রিয়াও দীর্ঘায়িত হয়েছে।

এর আগে ২০২২ ও ২০২৫ সালেও বিস্ফোরক সংকটের কারণে মধ্যপাড়া পাথরখনিতে উত্তোলন বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ থাকার নজির রয়েছে।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, “অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট একটি বিশেষায়িত পণ্য হওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে জাহাজ পেতে বিলম্ব হয়েছে। তবে বিস্ফোরকবাহী চালান ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে। আশা করছি, জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহেই পাথর উত্তোলন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও জানান, মোট ৩০০ মেট্রিক টন বিস্ফোরকের চাহিদা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৮৮ মেট্রিক টন সরবরাহ পাওয়া যাবে, যা দিয়ে দুই থেকে আড়াই মাস উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি চালানও দেশে পৌঁছাবে।

এদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় পাথরের সরবরাহেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে খনিতে মজুত থাকা পাথর বিক্রি কার্যক্রম সীমিত আকারে অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি মধ্যপাড়া। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে চুক্তির আওতায় প্রতিদিন গড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়। খনিতে তিন শিফটে প্রায় ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন। তবে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সুলতান মাহমুদ/নাঈম

আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই
কৃষক কবির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কবির হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

কবির হোসেন চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহলে তাকে ‘ভুয়া কৃষক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নানা ধরনের প্রচারণা চালায়, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তদন্ত করে। তদন্তে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজ জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কৃষক পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, কবির হোসেন ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সাদাসিধে একজন মানুষ। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি এলাকার মানুষের কাছে একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হওয়ার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রেখেছিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। কবির হোসেনের জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

জুয়েল/নাঈম

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট
সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ। ইনসেটে উদ্ধার আইডি কার্ড। ছবি : খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, আসবাবপত্র তছনছ, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। 

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের রিয়াদ কবিরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী বাদি হয়ে মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের ইকবাল কবিরের ছেলে রিয়াদ কবিরের বাড়িতে একই এলাকার পিয়ার হোসেন,  মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন (৪৮), লিটন হোসেন, ফর্মা হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন নিয়ে হামলা করে। 

এসময় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরকে মারধর করে। এক পর্যায়ে বাড়ীতে মাদক রয়েছে বলে আমার ঘরবাড়ির আসবাবপত্র তল্লাশি করে। আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে মামলা ও গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময়  তাদের একটি আইডি কার্ড ফেলে যায়। আইডি কার্ডে অজয় কুমার জয়, পদবী-সেপয়, ডিপার্টমেন্ট অফ নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ, আইডি নং- ৪৯১৩২৫, জাতীয় পরিচয় পত্র নং- ৪২১৮৯৫৩৪৮৯ পাওয়া যায়।

ফেলে যাওয়া আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য শরীফ হোসেন নামের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সিপাহি পরিচয়ে আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য হুমকি প্রদান করে।

এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি শরীফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আইডি কার্ড ফেরতের জন্য কাউকে ফোন দেননি বলে দাবি করেন। তবে অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। 

ব্যবসায়ী রিয়াদ কবির জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে এলাকার একটি চক্র পুলিশের সোর্সের মাধ্যমে তার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য বাড়িতে হামলা করে। মাদক উদ্ধারের নামে আসবাবপত্র তছনছ করে। হামলাকারীরা নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযুক্ত পিয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তিনদিন ধরে ওই এলাকায় তিনি যান না। কেউ তাকে দেখছেন প্রমাণ দিতে পারবে না। তবে শুনেছি প্রশাসনের লোকজনকে রিয়াদ ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করেছে। 

সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে হয়রানি মারাক্তক অপরাধ। আসল ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এসএন/

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩ কোটি ৯ লক্ষ ৯৮ হাজার ৪৬৮ টাকা ২৩ পয়সা প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন। 

একই সাথে অর্থবছরের রাজস্ব আয় ১৬ কোটি ৫৮ লক্ষ ২১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা, রাজস্ব ব্যয়: ১৩ কোটি ২০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, উদ্বৃত্ত ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ ৯১ হাজার ২০২ টাকা ৫১ পয়সা। আর উন্নয়ন খাতে মোট উন্নয়ন আয় ২৬ কোটি ৫১ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা। মোট উন্নয়ন ব্যয় ২৩ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। উদ্বৃত্ত ২ কোটি ৯৬ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৬৫ টাকা ৭২ পয়সা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পৌরসভা কার্যালয়ের সভাকক্ষে এই উন্মুক্ত বাজেট উপস্থাপন করেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম।

উন্মুক্ত বাজেটে উন্নয়ন ও অবকাঠামো খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এবারের বাজেটে নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি।

বাজেট ঘোষণাকালে পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম  বলেন, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাস্তাঘাট, ড্রেন, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়নে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। কোনো ধরনের নতুন কর চাপানো হয়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌর সহকারী প্রকৌশলী এইচ. এম. কামরুজ্জামান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জেবিন সুলতানা, হিসাব রক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন, কার্য সহকারী মোহাম্মদ আব্দুল আহাদসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।

লিটন সরকার বাদল/এসএন