ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবি ও প্রকাশ্যে হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ৫নং বাচোর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আক্কাশ আলী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত নভেম্বর মাসে টিআর (কাবিখা) বরাদ্দ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পিআইও মো. নুরুন্নবী সরকার তার নিকট ২০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, উৎকোচ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার ঠিকানায় গিয়ে পুনরায় টাকা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি দেন।
এদিকে, ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পিআইও ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “আপনার মতো মেম্বার কেন? চেয়ারম্যানকেও আমি গুনি না। আপনার মেম্বারি খেয়ে নেব। এমনকি চেয়ারম্যান পর্যন্ত এসে ‘আব্বা’ ডাকবে।” একপর্যায়ে তিনি সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকি দেন বলেও অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের।
ভিডিওটি এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বাচোর ইউনিয়নের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে প্রকাশ্যে এমন হুমকি দিতে পারেন? এটি ক্ষমতার চরম অপব্যবহার।”
এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, রাণীশংকৈলে যোগদানের পর থেকেই পিআইও নুরুন্নবী সরকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অফিস কক্ষে ধূমপানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে এর আগেও তার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন উপজেলাবাসী।
সেই মানববন্ধনের সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় দুই সাংবাদিক সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য মো. আক্কাশ আলী জানান, ঘুষ না দেওয়ায় তাকে এবং তার চেয়ারম্যানকে অপমান করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পিআইও মো. নুরুন্নবী সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়েও তাকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ আমানুল্লাহ আল বারি বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা জিডিতে নোট দিয়েছি। যা তদন্ত সাপেক্ষে আদালতে কাগজপত্র জমা দেওয়া হবে।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলার বর্তমান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন বিষয়টি অধিদপ্তরকে অবগত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
নবীন/মাহফুজ